ইফতেখার আলম বিশাল: রাজশাহী মহানগরীতে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় দুইজন চোরকে গ্রেফতার করেছে আরএমপির শাহমখদুম থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো মো: সাদিকুল ইসলাম (২৭) ও মো: ইয়ারাফুল পলাশ (২৫)। সাদিকুল ইসলাম রাজশাহী মহানগরীর শাহ্মখদুম থানার বড়বাড়িয়া উত্তরপাড়ার মো: সুলতান আহম্মেদের ছেলে ও ইয়ারাফুল পলাশ একই এলাকার মো: আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
গতকাল (১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় সাদেকুলকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে অপর আসামি মো: ইয়ারাফুল পলাশকে মধ্য নওদাপাড়া তার মামার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ তথ্য নিশ্চৎ করেছেন শাহমখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, রাজশাহী মহানগরীতে বিক্রয় ডট কম এর মাধ্যমে মোটরসাইকেল বিক্রি করেছিলেন সাদিকুল ইসলাম। ইয়ামাহা কোম্পানির এফজেড সিরিজের মোটরসাইকেলটি ক্রয় করেছিলেন নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর থানার রামচন্দ্রপুরের মো: কাওছার আলী।
মোটরসাইকেলটি বিক্রি করার সময় সে কাওছারকে মোটরসাইকেলের চাবিসহ সব কাগজপত্র বুঝিয়ে দিলেও কৌশলে একটি চাবি নিজের কাছে রেখে দেন সাদিকুল ইসলাম।
পরবর্তীতে কাওছার আলী মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তন করার জন্য মোবাইল ফোনে সাদিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাদিকুল জানায়, সে এখন রাজশাহীতে নাই পরে এসে মালিকানা পরিবর্তন করে দিবে। গত (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাদিকুল মালিকানা পরিবর্তনের জন্য কাওছারকে রাজশাহী বিআরটিএ অফিসে আসতে বলে। পরের দিন সাদিকুল দুপুর দেড়টার দিকে বিআরটিএ অফিসে এসে কাওছারের সাথে দেখা করেন। সেখানে সাদিকুল নাস্তা খাওয়ার কথা বলে কাওছারকে বিআরটিএ অফিসের সামনে একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে নাস্তা খাওয়ার পরে বাহিরে এসে কাওছার দেখে তার মোটরসাইকেলটি নাই।
ঘটনার দিন সাদিকুল মোটরসাইকেলের ঐ চাবিটি অপর আসামি মো: ইয়ারাফুল পলাশকে দেয়। সে যখন কাওছারকে নিয়ে হোটেলে নাস্তা করছিলো এই সুযোগে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ইয়ারাফুল পলাশ মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মো: কাওছার আলী শাহ্মখদুম থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। মামলার পরবর্তীতে শাহ্মখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে এসআই মো: আব্দুল মতিনসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান শুরু করেন।
তাঁরা আরএমপি’র অপারেশন কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার ও বিআরটিএ অফিসের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় সাদিকুলের পিছনে আরেক ব্যক্তি হেলমেট পড়ে বিআরটিএ অফিসে প্রবেশ করছে। এতে তাদের দুজনকে সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে শাহ্মখদুম থানা পুলিশের ঐ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আসামি সাদিকুলকে তার বাড়ি হতে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি সাদিকুল মোটরসাইকেল চুরির কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত পৌনে ১২টায় অপর আসামি মো: ইয়ারাফুল পলাশকে মধ্য নওদাপাড়া তার মামার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এসময় আসামির কাছ থেকে চোরাই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সনি বাংলা ডট কম/ইআবি





