• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে রাজশাহীর ৮৬ বিঘার জলাশয়!

প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ আগস্ট, ২০২৩ ৬:৪০

মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে রাজশাহীর ৮৬ বিঘার জলাশয়!

স্টাফ রিপোর্টারঃ দেড়মাস পরে আবারো শুরু হয়েছে পরিবেশ বিনষ্টকারী সেই অবৈধ কর্মযজ্ঞ। ইতোমধ্যেই প্রায় ১৫ বিঘা ভরাট কাজ সম্পন্ন করেছে ভরাটকারিরা সাচ্চু। প্রায় ৮৬ বিঘা আয়তনের বিশালাকার এই ধরণের জলাশয় নগরীর আর কোথাও নেই বলে দাবি স্থানীয়দের। জলাশয়টির একাংশ ভরাট হবার কারণে পাবনাপাড়া, রায়পাড়াসহ টেক্সটাইল মিলের আশেপাশে বসবাসকারিরা বর্ষা মৌসুমে পড়বেন চরম বিপাকে বলে মন্তব্য এলাকাবাসির। পানি নিষ্কাশনের অভাবে জলাবদ্ধতা প্রকোট আকার ধারণ করবে। ভোগান্তি বাড়বে বসবাসকারিদের।
রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা রনি (৩৭), সামসুল (৪৪) ও আলম (৫০) বলেন, সেই ছোট থেকে কিশোরকাল পর্যন্ত আমরা বন্ধুরা মিলে এই জলাশয়ে গোসল করতাম, নৌকাতে করে মাছও ধরতাম। জলাশয়ে আসা বড় বড় বকপাখি ছাড়াও আসতো নানা প্রজাতির পাখি। এখনো আসে। এইতো গত শনিবার (৬ আগস্ট) জলাশয়ের পূর্বদিকের পানিতে পাঁচ ছয়টা বড় বড় সাদা বকপাখি মাছ ধরার জন্য বসেছিল। এখনো নৌকাতে করে অনেকেই মাছ ধরে। এই জলাশয়ের পানিতে ২৩ কেজি ওজনের বোয়াল মাছও ধরা পরেছে। বলা হচ্ছিল রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানাধীন ১৭ নং ওয়ার্ডের বড়বনগ্রাম মৌজা অন্তর্গত রায়পাড়া এলাকার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পেছনের ৮৬ বিঘা আয়তনের বিশালাকার জলাশয়টির মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবার চলমান পক্রিয়ার কাহিনী। জলাশয়টি ভরাটের ফলে নানামূখি সমস্যা আর জলাবদ্ধতার চরম ভোগান্তির পাশাপাশি ঝুঁকি বাড়বে আগুন নেভানোর জন্য পানির অনুপস্থিতির বলে মন্তব্য সচেতনদের।
স্থানীয়দের বাঁধারমুখে ভরাট কার্যক্রম একবার বন্ধ হলেও আবারো শুরু হয়েছে পরিবেশগত ভারসাম্যের ধ্বংসলীলা বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি আর স্থানীয় প্রশাসনের ভয়ে পুণরায় কেউ বাঁধা দেবার সাহস পাচ্ছেনা বলেও মন্তব্য এলাকাবাসির। ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহাদত আলী শাহুর নিশ্চুপ ভূমিকা নিয়েও জনেমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন। এক পশ্নের জবাবে কাউন্সিলর শাহু বলেন, ‘আমিও তাই শুনলাম। জলাশয়টি নাকি আবারো ভরাট করা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখবে।’ কিন্তু শোনাযায়, দেড়মাস আগে পাবনাপাড়া ভূমিহীন বস্তিবাসিদের একত্রিত করে জলাশয় ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ ও নির্দেশনা আসে বিশেষ একটি মহল থেকে। সে নির্দেশনা মোতাবেক পাবনাপাড়া ভূমিহীন সংগঠণের নেতা মতিনের নেতৃত্বে দেড়মাস আগে (১৩.৬.২৩) বস্তিবাসির একাংশ একত্রিত হয়ে আন্দোলন করে জলাশয় ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ঐসময় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া দলনেতা মতিন প্রতিবেদককে বলেছিলেন, এই জলাশয়টি ভরাট করে দিলে হাজার হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়বে। এছাড়াও গৃহস্থালির কাজসহ প্রাত্যহিক নানা প্রয়োজনের এই জলাশয়টি আমাদের এক ধরণের আশীর্বাদ স্বরূপ। তাই আমরা ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু দেড়মাস পর কি এমন হলো যে, সেই প্রতিবাদকারীরা এখন নিশ্চুপ হয়ে বাড়ির উঠেন থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে জলাশয়টির মৃত্যুযাত্রা। নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন প্রতিবেদকে জানান, শুনেছি ভরাটকারি সাচ্চু নাকি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করেছেন মোটা অংকের টাকার দিয়ে মুখ বন্ধ কওে দিয়েছে। তাই এবার, ভরাট কাজে স্থানীয়ভাবে কোন প্রকার বাঁধাবিঘœ আসেনি। হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, জলাধার কোনোভাবেই ভরাট করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে দেদাড়ছে চলছে জলাশয় ভরাটের কর্মযজ্ঞ। এই অবৈধ ভরাট কর্মকান্ডের কারণে ‘বিশালাকার এই জলাশয়টি এখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন সচেতন ব্যক্তিরা।’
রাজশাহী নগরীর ষষ্টিতলা নিবাসী মৃত মাইনুল ইসলামের ছেলে সাচ্চু একপশ্নের জবাবে বলেন, জলাশয়টি কাগজে কলমে ভিটা উল্লেখ্য আছে। আমার জায়গা আমি ভরাট করবো নাকি খনন করবো সেটি আমার বিষয়! অন্যদের কি ? তাছাড়া, আমি তো পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছি। ভরাটকারি সাচ্চুর কথার প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলা শাখা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক কবির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভরাটের বিষয়ে আমরা অবগত না। এছাড়া মৌখিক নির্দেশনা দাপ্তরিক কোন ফরমেট হতে পারেনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাভ‚মি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কার্বন সংরক্ষণ করে। রক্ষা করে ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর। রাজশাহীর পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, বরেন্দ্র অঞ্চল হওয়ায় এমনিতেও রাজশাহীতে পানির স্তর নিচের দিকে থাকে। এর মধ্যে ভ‚মির উপরিভাগের জলাশয়গুলো যেভাবে ভরাট হচ্ছে, তা আশঙ্কাজনক। রাজশাহীতে শীতের সময় তীব্র শীত আর গরমের সময় তীব্র গরমের যে আবহাওয়া বিরাজ করে, তা পরিমাণমতো জলাভ‚মি না থাকার কারণে। এমনভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই নগরী বসবাসের উপযোগিতা হারাবে। এই জলাশয়টি ভরাট হলে এর আশেপাশের এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্ট হবে চরমভাবে বলে মন্তব্য সচেতন ব্যক্তিদের।

সনি বাংলা ডট কম/ই আবি

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮