• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

পৃষ্ঠপোষকতা আর মানসম্পন্ন আর্ট গ্যালারির অভাবে স্তব্ধ হয়ে আছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

প্রকাশ: শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০২৩ ৬:৪৯

পৃষ্ঠপোষকতা আর মানসম্পন্ন আর্ট গ্যালারির অভাবে স্তব্ধ হয়ে আছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

স্টাফ রিপোর্টার: বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) থেকে রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ৯ম বার্ষিক শিল্পকলা প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

মহাবিদ্যালয়টি বোয়ালিয়া থানাধীন শিরোইল এলাকায় অবস্থিত। চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে দ্বিতীয় তলার লতা আর্ট গ্যালারিতে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শিক্ষক ও ত্রিশজন শিক্ষার্থী কর্তৃক অঙ্কন করা কয়েকশ চিত্র স্থান পেয়েছে উক্ত প্রদর্শনীতে।

চলবে আগামী ২১ মার্চ পর্যন্ত। পেন্সিল স্কেচ, কলম, তৈল ও এসিড রং, উটকাট প্রিন্ট, এচিং, টাইলস্ধসঢ়; পেইন্টিং, একরেলিক রং সহ অন্যান্য আরো অনেক উপকরণের ব্যবহারে চোঁখ ধাঁধানো চিত্রাঙ্কনগুলো দেখতে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন প্রদর্শনী স্থলে।

প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছবি সহ শহর ও গ্রাম বাংলার আবহমান দৃশ্য। এছাড়াও রং আর তুলির সমন্বয়ে চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে হারিয়ে যাওয়া কাসার বাসনপত্র। আরো স্থান পেয়েছে যুদ্ধে ডামাডোলে ইউক্রেনের ভয়াবহতার দৃশ্যও। প্রদর্শনীর বিশেষ স্থানে স্থান পাওয়া বঙ্গবন্ধুর ছবিটিকেও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চমৎকার করে।

চিত্রকর্মটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ফেস এন্ড হিস্টোরি’। এছাড়াও তৈল রং ব্যবহার করে চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বঙ্গ জননীর একটি চিত্রকে।

চিত্রটির মূলভাবার্তা হলো, একজন মা জন্ম দেওয়া তার শিশু সন্তানকে নানা প্রতিকূলতা, কষ্ট আর যন্ত্রণার মধ্যে নিজে কষ্ট করে কিভাবে আগলে রাখে সেটি চমৎকারভাবে চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়াও তৈল রং ব্যবহার করে চমৎকার কম্বিনেশনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সমাজে স্থান না পাওয়া নরসুন্দরদের (নাপিত) পেশার বিষয়টিকে। শাহারিনা সুলতানা নামের একজন শিক্ষার্থী টাইলস্ধসঢ়; পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন হারিয়ে যাওয়া বেঁদে পরিবারের আত্মজীবনীকে। রাজশাহী শহরের সবুজায়নের বিষয়টিকে তৈল রং দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে। রংচিত্র ছাড়াও উক্ত প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে কাঠ খোদাই করে তৈরি করা পাখি, ফুল ও গাছের চিত্রসহ বিভিন্ন ধরনের ফুলদানি।

শিক্ষার্থীদের মেধার গন্ডি থেকে বাদ পরেনি টিভি চ্যানেলে সম্প্রচার হওয়া বিজ্ঞাপন চিত্রের বিষয়গুলোও। সেগুলো তৈরি করা হয়েছে পোস্টার রং ব্যবহার করে। জল রং দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পানিতে জন্ম নেওয়া দেশীয় লাল পদ্ম ফুলকে। চিত্রকর্মর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মাতৃভাষা বাংলার অক্ষরগুলোকে। এছাড়াও সিল্ক কাপড়ে এসিড রং ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কপোতীর চুলের খোপাতে থাকা ক্যামেলিয়া ফুলকে।

এবারের প্রদর্শনীটি নিয়ে নবমবারের মতো আয়োজন হলেও পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহোযোগিতার অভাবে বড় পরিসরে আয়োজন করতে পারছেনা প্রতিষ্ঠানটির আয়োজকরা। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত প্রভাষক হাসান ইমাম রাসেল ও আশরাফুল হক রিপন জানান, ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করা কলেজটিতে মোট শিক্ষক-মকর্মচারি আছেন ৩৯ জন। আর শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় দেড়শ জন। কলেজ প্রতিষ্ঠার  প্রায় দুই যুগ অতিক্রম করলেও আজ পর্যন্ত কলেজটির নেই ভালমানের কোন প্রদর্শনী গ্যালারি। বড় পরিসরের গ্যালারি আর পৃষ্ঠপোষকতার পিছুটানে কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পারছেন না নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে। চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর মাধ্যমে উপার্জনের একটি পন্থা খুব সহজেই উন্মোচন হতে পারে।

কিন্তু সেক্ষেত্রে চিত্রকর্মের আয়োজনটি হতে হবে ঢাকা কিংবা চট্রগ্রামের মতো মানসম্পন্ন। যেটা কিনা অর্থাভাবে কখনোই হয়ে উঠেনি। রাসিক মেয়র কোন এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন  আহমেদ এর নামে রাজশাহীতে নির্মাণ করা হবে মানসম্পন্ন একটি আর্ট ল্যাগারি। আর এই ধরনের কোন আর্ট গ্যালারি তৈরি করার পর আর্ট কলেজকে সেটির একটি অংশ হিসেবে স্থান দিলে চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশের বিভিন্নস্থানে থাকা রুচিবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি, শিল্পপতিরা ছাড়াও দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ক্রেতার আগমন ঘটতো চিত্রকর্ম কেনার জন্য। বলা বাহুল্য এই আর্ট কলেজের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর চিত্রকর্ম দেশের বাইরে বিক্রি হয়েছে উচ্চমূল্যে। ছবি বা চিত্রকর্ম কোন বস্তু কিংবা শুধু যে শখের কোন বিষয় সেটি কিন্তু নয়। বরংচো এটি একটি স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ।

বিদেশ নয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার প্রদর্শনীগুলোতে উচ্চমূল্যের চিত্রকর্ম কেনাবেচা হয় প্রতিনিয়তই। আমদের শহরের মানুষেরা হয়তো জানেই না এখানেও সুযোগ আছে নামিদামি চিত্রকর্ম কেনার। আর এর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে বিশাল পরিসরে চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর বিভিন্ন ধরনের বাঁধা ও প্রতিবন্ধকতা। শিল্পী কিংবা শিল্পকর্ম মুহূর্তের মধ্যেই পারে মানুষের ভেতরের সুপ্ত ভালবাসা, প্রতিভা আর মননশীলতাকে জাগ্রতো করতে। তাই শিক্ষানগরী রাজশাহীতে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের একটি আর্ট গ্যালারি। তবেই মেথার বিকাশ ঘটার পাশাপাশি উপার্জনের একটি নতুন মাত্রা যোগ হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

সনি বাংলা ডট কম/ইআবি

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮