• শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
Headline
আসাম কলোনিতে নাগরিক সমস্যার খোঁজ নিলেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ফেসবুকে মানহানিকর ও অশ্লীল পোস্ট: সাইবার মামলার আসামি পলাশ রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার মতিহারে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রাজশাহীকে সবুজ নগরী গড়তে আরডিএর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ধর্মেন্দ্রের ইস্তফাতেও শেষ হয়নি স্নায়ুযুদ্ধ! সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় ‘ককরোচ’রা, চাপ বাড়াতে ফের বিক্ষোভের হুমকি রাজশাহীতে গুরুতর অসুস্থ প্রবীণ মঞ্জুর আলম, সুস্থতা কামনায় দোয়ার আহ্বান জাতীয় আদিবাসী পরিষদের দুর্গাপুর উপজেলা ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত, ৩১ সদস্যের কমিটি গঠন ছোটন সরদার রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে রাসিক প্রশাসকের শোক প্রকাশ রাসিক প্রশাসকের নির্দেশনায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনের কাদামাটি অপসারণ কার্যক্রম অব্যাহত রাজশাহীতে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিক সম্রাট, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

ভারত থেকে দেশে ফেরার পথে গ্রেফতার প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা নয়ন

সনি নিউজ / ৪৪ Time View
Update : বুধবার, ৮ মার্চ, ২০২৩
ভারত থেকে দেশে ফেরার পথে গ্রেফতার প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা নয়ন
ভারত থেকে দেশে ফেরার পথে গ্রেফতার প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা নয়ন

ইফতেখার আলম বিশাল: বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার জাল প্রশ্নপত্র ও প্রবেশপত্র তৈরি করে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এসময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড, পরীক্ষার প্রবেশপত্র, জীবন বৃত্তান্ত, নাগরিক সনদপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি উদ্ধার হয়।

গ্রেফতারকৃত প্রতারকের নাম নয়ন ইসলাম (২৫)। সে রাজশাহীর বাগমারা থানার অচিনঘাট এলাকার আজগর হোসেন মন্ডলের ছেলে। নয়ন রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার উপশহর এলাকার বাসিন্দা।

গ্রেফতার এড়াতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা নয়ন। ভারত থেকে ফেরার পথে সোমবার (৬ মার্চ) যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

পরে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর খবর পেয়ে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সেখানে গিয়ে নয়নকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) বিজয় বসাক গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, ভর্তি ও নিয়োগসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূল হোতা এই নয়ন। জাল প্রশ্নপত্র ও প্রবেশপত্র তৈরি করে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তার এই চক্রটি। গ্রেফতারের পরে নয়নকে ধরে নিয়ে আসে ডিবি পুলিশ। এরপর নয়নের কাছ থেকে বিভিন্ন
পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড, পরীক্ষার প্রবেশপত্র, জীবন বৃত্তান্ত, নাগরিক সনদপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) বিজয় বসাক বলেন, পুলিশ জানতে পারে, জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন নিউমার্কেট সংলগ্ন পিজি টাওয়ার বিল্ডিংয়ের ১০ম তলায় অবস্থান করছে। এখান থেকেই তারা নগরীর বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের মালিকদের সহযোগিতায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরে আরএমপি কমিশনার আনিসুর রহমান বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মহানগর গোয়ন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেন। এরপর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আল মামুনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক মশিয়ার রহমান একটি ইউনিট নিয়ে এই জালিয়াত চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মহানগর ডিবি পুলিশের ওই টিম পিজি টাওয়ারের ১০ম তলায় অভিযানে গেলে জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে ফ্ল্যাটের মালিকের মাধ্যমে জানা যায় ভাড়াটিয়ার নাম নয়ন ইসলাম।

তিনি নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে তার অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে বসবাস করতেন। বাড়ির মালিক আরো জানান নয়ন নিজেকে কখনও ডাক্তার, কখনও সরকারি কর্মকর্তা বা এনজিও কর্মী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন চাকরি প্রার্থী ও ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে যোগাযোগ করে। আর অনেকেই এখানে আশা যাওয়া করে। পরে ডিবি পুলিশ প্রতারক চক্রের মূল হোতার নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে আসামি নয়নসহ অন্যান্য সদস্যরা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দেশের সব বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরসমূহে বিশেষ চিঠি পাঠায়। কিন্তু হোতা নয়ন এর আগেই ভারতে পালিয়ে যায়। এরপর নয়ন ইসলাম গত ৬ মার্চ বিকেলে যশোর জেলার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের চিঠির প্রেক্ষিতে বেনাপোল ইমিগেশন পুলিশ তাকে আটক করে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে।

বিষয়টি তারা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) জানায়। এরপর গত মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেলে ডিবি পুলিশ যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানায় গিয়ে নয়নকে নিজ হেফাজতে নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নয়ন জানিয়েছে, এসব প্রতারণায় তার সহযোগী হলো পলাতক আসামি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলর বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র সনেট।

এছাড়া আরো অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন সহযোগী রয়েছে তার। তারা পরস্পর যোগসাজসে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে চাকরি ও মেডিকেল কলেজ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের মোবাইল ফোন নম্বর নেন। এরপর বিভিন্ন অ্যাপসের (হোয়াটস অ্যাপস, ভাইবার, টেলিগ্রাম) মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের চাকরি দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আশ্বাস দিয়ে মোবাইল ফিন্যান্স (বিকাশ, রকেট, নগদ) অ্যাকাউন্ট এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, গ্রেফতারসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পেনাল কোডে একটি মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সনি বাংলা ডট কম/ইআবি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category