• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

অবহেলায় হারাচ্ছে ঐতিহ্য: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামের গৌরব আজ মলিন

প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:২৪

অবহেলায় হারাচ্ছে ঐতিহ্য: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামের গৌরব আজ মলিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতার পর রাজশাহী মহানগরীতে বড় ধরনের অনুষ্ঠান, সভা, সেমিনার করার মত কোনো হল রুম বা অডিটরিয়াম ছিল না। গুরুত্বপুর্ন সভা সেমিনার হতো ছোটখাটো রেস্তোরায় বা কনভেনশন সেন্টারে। সেটাও ছিল হাতে গোনা কয়েকটা। মিজানুর রহমান মিনু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সভা সেমিনারের জন্য তিনি একটি অত্যাধুনিক অডিটরিয়াম স্থাপনের চিন্তা করেন। মেয়র হওয়ার বছরই তিনি বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি উদ্যোগ নিয়ে সভা, সেমনিারের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়াম নির্মাণে হাত দেন (বর্তমান ডা.কাইসার রহমান চৌধুরী মেমোরিয়াল অডিটরিয়াম নামে পরিচিত)। ৯০ দশক থেকে একবিংশ শতাব্দি। মিজানুর মিনুর উদ্যোগে নির্মাণ করা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়াম নির্মাণ শৈপির কারণে এখনও চির তরুণ, চির নবীন। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এর আসন সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। নষ্ট করা হয়েছে এর সুন্দর্য ও ভেতরের অবকাঠামো।

১৯৯১ সালে মিজানুর রহমান মিনু রাসিকের মেয়র নির্বাচিত হন। ওই সালেই ১৮নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে নেন। দ্রুত সময় নির্মাণ কাজ শেষে করে ১৯৯৫ সালে ৭ জানুয়ারী এই অডিটরিয়ামটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তৎকালীন ভুমি প্রতিমন্ত্রী কবীর হোসেন। এই অডিটরিয়ামে ছিল ১ হাজার ৩৯টি আসন। আধুনিক মানসম্পন্ন ভবন হিসাবে এটি নির্মাণ করা হয়। অডিটরিয়ামের ভেতরে সামনের অংশে নির্মাণ করা হয় একটি বড় মঞ্চ। যেখানে সুবিশাল প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়। বসার আসনগুলো মূলত গ্যালারী আকারে তৈরি করা হয়। ৯০ দশকে আগে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামের চেয়ে আধুনিক ভবন আর উত্তরাঞ্চলে ছিল না। এই অডিটরিয়াম নির্মাণের পর সরকারী, বেসরকারী, রাজনৈতিক সভা, সেমিনার এখানে করা হতো। তবে এখন আর এই অডিটরিয়ামে ১ হাজার ৩৯টি আসন নেই। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এর আসন সংখ্যা কমে গেছে। বর্তমান এই অডিটরিয়ামের আসন সংখ্যা ৭৮০টি। ভেতরে অনেক আসন ভেঙ্গে পড়ে আছে। কোনোটিতে আবার বসার মত অবস্থা নেই। মূলত আওয়ামী লীগের সময় এই অডিটরিয়ামকে ফ্যাস্টিস নেতারা নিজেদের চেম্বারের মত ব্যবহার করেছে। কিন্তু বিগত সময় কোনো সংস্কার করা হয় নি। দিন দিন এর আসন সংখ্যা কমলেও বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই অডিটরিয়ামটি দেখভালের জন্য আলাদাভাবে দায়িত্ব দেয়া আছে। ঐতিহ্যবাহি উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় অডিটরিয়ামটি বর্তমানে দুরাবস্থা। গত ১৫ বছর এর গায়ে কোনো সংস্কার লাগেনি। কিন্তু একটা সময় এই অডিটরিয়ামে একটি রাজনৈতিক দল সব ধরনের সভা, সেমিনার, অনুষ্ঠান করেছে। নিজেদের বলে তারা দাবিও করতো। কিন্তু দিনের পর দিন সংস্কারের অভাবে অডিটরিয়ামের ভেতরের অবস্থাও খারাপ হয়ে গেছে। বসার চেয়ার ও গ্যালারীও অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। মঞ্চের সামনের অংশও অনেকটা পুরাতন ভবনের পরিত্যাক্ত স্থানের মত হয়ে গেছে। তবে এটি সংস্কার করা জরুরী বলে মনে করছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে মেডিকেল কলেজের এক অধ্যাপক বলেন, কয়েকবার এই অডিটরিয়ামটি সংস্কারের জন্য সাবেক সদর আসনের এমপি, মেয়রের কাছে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এদিকে নজর দেয়নি। তিনি বলেন, এখন নতুন করে আশায় বুকবাধা হচ্ছে। মিজানুর রহমান মিনু সদর আসনের এমপি নির্বাচিত হলে এই অডিটরিয়াম সংস্কারের জন্য আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। কারণ তিনি এই অডিটরিয়াম নির্মাণ করেছেন। মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তারা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিনু এমপি নির্বাচিত হবে বলে আমরা আশা করছি। আর সংস্কার হবে তার নির্মাণাধীন এই অডিটরিয়ামটি।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮