অনলাইন ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করা শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের গ্রামের বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে। তবে ঘটনার পর থেকে ফয়সাল ওই বাড়িতে আসেননি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শুটার ফয়সালের চাচি মিনারা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাদিকে যেভাবে গুলি করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই ফয়সালকে গুলি করা হোক। কোনো মায়ের সন্তান এভাবে কাউকে গুলি করতে পারে—এটা আমি মেনে নিতে পারি না।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুটার ফয়সাল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের কেশবপুর ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি হুমায়ুন কবির ওরফে মালেক ও হাসি বেগম দম্পতির ছেলে।
ফয়সালের বাবা ও চাচারা মোট পাঁচ ভাই। এর মধ্যে হুমায়ুন কবির চতুর্থ। বর্তমানে গ্রামে পৈতৃক ভিটায় বসবাস করছেন ফয়সালের ছোট চাচা সেলিম হাওলাদার, যিনি কৃষিকাজ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির প্রায় ৪০ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় চলে যান। পরে সেখানেই বিয়ে করেন এবং গ্রামে আর নিয়মিত আসেননি। এমনকি তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়েও তিনি গ্রামে ফেরেননি। কয়েক বছর আগে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করতে একবার এলেও পরে আবার ঢাকায় ফিরে যান। বর্তমানে এলাকায় তাদের কোনো ঘরবাড়ি নেই।
ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ফয়সালের গ্রামের এলাকায় ব্যাপক অসন্তোষ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান।
ফয়সালের চাচি ও সেলিম হাওলাদারের স্ত্রী মিনারা বেগম আরও বলেন, “ফয়সালকে জন্মের পর থেকে কখনো দেখিনি। তারা ঢাকায় থাকে। তার এমন কাজ আমাদের পরিবার ও গ্রামের জন্য লজ্জার।”
কেশবপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহিদ হোসেন বলেন, “হুমায়ুন কবির বহু বছর আগে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছেন। গ্রামের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।”
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “ফয়সালের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কেশবপুর এলাকায় খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক বছর আগে তারা এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় তেমন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় এক যুগ আগে তার বাবা পৈতৃক বসতঘরও বিক্রি করে দিয়েছেন। তবুও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এলাকায় পুলিশের নজরদারি রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আজ শনিবার দুপুর ২টায় ঢাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাজনৈতিক সহকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাধারণ জনগণসহ লাখো মানুষের ঢল নামে। জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এ সময় উপস্থিত জনতা চোখের জলে প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানায় এবং হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করে।





