• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

নওদাপাড়া হাট ইজারাদারের কর্মকান্ড নিয়ে নানা অভিযোগ জায়গা দেবার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা

প্রকাশ: শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩ ১১:৫৪

নওদাপাড়া হাট ইজারাদারের কর্মকান্ড নিয়ে নানা অভিযোগ জায়গা দেবার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা

স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়াস্থ সাপ্তাহিক হাটের ইজারাদারের কর্মকান্ড নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ।

অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো স্বজনপ্রীতি, অতিরিক্ত খাজনা আদায়, অনুমতি ব্যতিরেকে সরকারি জায়গা দখলের অপচেষ্টা। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, ব্যবসায়ীদেরকে স্থান করে দেয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভুত মোটা অংকের টাকা আদায়।


হাটটি সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা নিয়েছে আতিক নামের একজন ব্যবসায়ী। তার সাথে অংশীদার হিসেবে আছে আরো ছয়জন। এরা হলো, আতিকের ভাই মামুন, রিমন, রাজা, রনি সহ আরো একজন বলে জানান মূল ইজারাদারের পার্টনার মামুন ও রাজা।
জানাগেছে, তারা আড়াই মাস আগে ঐ হাটটি রাজশাহী সিটি করপোরেশন থেকে প্রায় আট লাখ টাকার বিনিময়ে একবছরের জন্য ইজারা নেন। প্রতি রবিবার ও বুধবার নওদাপাড়াতে বসে এই ঐতিহ্যবাহী হাট। শহরের মধ্যে এটিই একমাত্র সাপ্তাহিক কাঁচা বাজারের হাট। স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে এখন অবদি সাপ্তাহিক এই হাটটি চলমান রয়েছে। যার কারণে, এটিকে নগরীর ব্যবসা পরিমন্ডলের ছোটখাটো একটি ঐতিহ্য হিসেবে চিহিৃত করলে ভুল হবে না বলেও দাবি স্থানীয়দের। আর এই ঐতিহ্যবাহী হাটের ব্যবসা আর ব্যবসায়িদেরকে ঢাল করে ইজারাদারের চলছে নানামুখি অপতৎপরতা বলে মন্তব্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের।
গত১৫ জুলাই বিমানবন্দর সড়ক সংলগ্ন ফুটপাতে পূর্ব অনুমতি ব্যতীরেকে ইজারাদারের লোকজন রাতারাতি বাঁশ, লাঠি আর দড়ি দিয়ে সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে। সিটি করপোরেশন থেকে ইজারার মাধ্যমে হাট নিলেও সড়ক বিভাগের রাস্তার একাংশ দখল করে অবৈধ পন্থায় হাট বসানোর বিষয়টিকে বেআইনী বলেই দাবি স্থানীয়দের। যার প্রেক্ষিতে পরেরদিন ১৬ জুলাই সকাল ১১ টায় হাট চলাকালীন সময়ে সড়ক বিভাগের জনবল এসে মাইকিং করে হাট তোলার আল্টিমেটাম দিলেও বুধবার ১৯-৭-২৩ তারিখেও দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক বিভাগের রাস্তায় চলে অবৈধ বেচা বিক্রি ।
সড়ক বিভাগ তাদের দেয়া আল্টিমেটামে জোড় দিলে পরবর্তীতে ইজারাদার বাধ্য হয়ে নওদাপাড়াস্থ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের উত্তর-পূর্ব অংশে হাট বসানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও চলাচলকারিদের বিশেষ অনুরোধ ও নিষেধকে উপেক্ষা করে কৌশলে সেখানেই হাট বসানোর সকল প্রকার বন্দবস্ত করেন হাট ইজারাদার বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে, হাটবারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের জন্য ইজারাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, গেলবারের চাইতে এবার দ্বিগুণ হারে খাজনা দিতে হচ্ছে হাট ইজারাদারকে। কারো কাছে ইজারাদারের লোকজন কম নেন, আবার কারো কাছে নেন দ্বিগুণ পরিমাণ খাজনা। বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা বলেও অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তারা আরো বলেন, মাত্র দুই থেকে তিন বছর আগেও প্রতিটি ঢাকি/পাল্লার বিপরীতে ইজারাদারকে খাজনা দিতে হতো দশ থেকে বিশ টাকা করে। আর এখন সেটি বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে পঞ্চাশ থেকে দুইশ টাকায়। যার কারণে সাপ্তাহিক এই হাটে প্রতিনিয়তই কাঁচাপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও দাবি তাদের। পরিচিত ব্যবসায়ীদেরকে কম অর্থের বিনিময়ে দিয়েছেন ভাল জায়গা। আর দূরদূরান্ত থেকে আসা কৃষক ও কাঁচামালের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইজারাদার নিয়েছে মোটা অংকের টাকা বলেও অভিযোগ অনেকের।
সরকারি রাস্তার পাশে জায়গা করে দেবার নাম করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইজারাদারের লোকজন মোটা অংকের অর্থ নিজেদের হস্তগত করেছে বলেও অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। যেটি সম্পূর্ণই নিয়ম বহির্ভূত বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। কারণ, প্রতিহাটে ব্যবসা করার বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ একটি খাজনা উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে থোক টাকা উত্তোলনের কোন নিয়ম নেই বলে জানান পূর্ববর্তী একজন ইজারাদার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাট পার্শ্ববর্তী এলাকার স্থায়ী ব্যবসায়ি ও দোকানদাররা বলেন, জায়গা করে দেবার নামে নিয়মবহির্ভুত পন্থায় ইজারাদার যে অর্থ উত্তোলন করেছে তাতে করে তারা কৌশলে নিজেদের পকেটই ভারি করেছেন। তবে কেউ কেউ বলছেন, যাদের সামর্থ আছে তারা হয়তো ইজারাদারের কাছ থেকে টাকা ফেরত নিতে পারবে। কিন্তু যারা দূরদূরান্ত থেকে এসেছে তাদের পক্ষে টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে, বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী চতুরতার আশ্রয় নিয়ে পকরে টাকা দেবো বলে বেঁচে গেছেন বলেও দাবি তাদের। হাটটিতে প্রতি হাটবারে একশোর অধিক ব্যবসায়ী কাঁচাসবজি, মসলা, মাছ, জিলাপী, পাপড়, ডাব কলা, চাল ডাল সহ অন্যান্য নিত্যপণ্য বিক্রি করেন।
ইজারাদারের পার্টনার মামুন ও রাজার কাছে তাদের বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, ব্যবসায়িদেরকে জায়গা করে দেবার নামে টাকা নেয়ার অভিযোগটি মিথ্যে। যারা বলেছে তারা আমাদের ভাল চান না। কারা বলেছে তাদের নাম বলুন! তারা আরো বলেন, সিটি করপোরেশন উক্ত স্থানটিতে মার্কেট নির্মাণ করবে বলে আমরা সড়ক বিভাগের রাস্তা সংলগ্ন স্থানটি সাময়িক ভাবে হাটের জন্য ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। স্থায়ী ভাবে নয়। অনুমতি নেননি কেনো জানতে চাইলে তারা বিষয়টি ওভারকাম করে যান। এদিকে, তার কয়েকঘন্টা পরে আরেক পার্টনার রিমন লক্ষিপুর থেকে ফোন করে প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান কে আপনি? তিনিও পূর্ববর্তীদের মতোই কথা বলেন। ঐদিন রাতেই রনি নামের আরেক পার্টনার প্রতিবেদকে ফোন করে কিছুটা দাম্ভিকতা, দাপট আর শক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে বলেন, ভাই আপনি আমাকে-আমাদেরকে চিনেন না, আমরা কি ধরনের ছেলে! শোনা যায়, এদেরমধ্যে দুজন যুবলীগ করা অবস্থায় কোন কারণে বহিঃস্কার হয়েছিল। তবে, পরবর্তীতে একজন মহানগর যুবলীগের সদস্য হিসেবে নিজের পদ ফিরে পান কোন এক নেতার বদলতে।

সনি বাংলা ডট কম/ই আবি

সর্বশেষ সংবাদ

বিপুল ভোটে হেরে গেলেন তাহেরী
শনিবার, জুলাই ২২, ২০২৩ ১১:৫৪
জামায়াত আমিরের জয়
শনিবার, জুলাই ২২, ২০২৩ ১১:৫৪
মামুনুল হককে হারিয়ে ববি হাজ্জাজের জয়
শনিবার, জুলাই ২২, ২০২৩ ১১:৫৪
 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮