নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বাগমারা উপজেলায় অনাবাদি ও স্থায়ী পতিত জমিতে পুকুর খননে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে কোন্দা হরিপুর গ্রামের কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে। এঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান কুটু নামের এক ব্যক্তি। আনিছুর রহমান (পুটু) কোন্দা হরিপুর আচপাড়া গ্রামের মৃত নছির উদ্দিনের ছেলে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, বাগমারা থানার কোন্দা হরিপুর গ্রামের মো: আবুল হোসেন (৫২), ফরিদ হোসেন (৫২), আনোয়ার হোসেন (৫২) ও মো: কামরুল (৩২)। ইতি মধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন বাগমারা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার আলী।
আনিছুর রহমান পুটু অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, উপরোক্ত বিবাদীগন পুকুর খননকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রাননাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
জানতে চাইলে আনিছুর রহমান পুটু বলেন, আমার মহজন মিজানুর রহমান মিজান তিনি বিরোহী খোদাপুর গ্রামে ১৩ বিঘা অনাবাদি ও স্থায়ী পতিত জমি লিজ নিয়েছেন। সেখানে পুকুর খনন শুরু হওয়ার আগে বিবাদীরা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে পুকুর খনন কাজ বন্ধ করেদেন। পরবর্তীতে আবুল হোসেনের হাতে কিছু টাকা দিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। তার দুদিন না যেতেই পুনরায় টাকা দাবি করেন আবুল হোসেন। টাকা না দেওয়ার কারনে আমাদের মারপিটসহ হত্যার হুমকি দেন তারা।
এছাড়া আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন তারা বলেও জানান ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান। খোজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী বাগমারা উপজেলার বিরোহী মৌজার খোদাপুর গ্রামে ১২ জন কৃষক একত্রিত হয়ে তাদের অনাবাদি এবং স্থায়ী পতিত জমিতে পুকুর খননে উদ্যোগ গ্রহন করেন।
জানতে চাইলে জমি মালিক কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে আমাদের জমিতে কোনো প্রকার আবাদ হয়না। কারণ জমিটি একদিকে নিচু অন্যদিকে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছেনা। এছাড়া আমাদের এ জমি ছাড়া অন্য কোনো জমি নাই। আমাদের একমাত্র উপার্জন এ জমি থেকে। দীর্ঘীদিন থেকে জলাবদ্ধতার কারণে আমরা সেখানে কোনো ফসল উৎপাদন করতে পারিনা। উক্ত জমিতে পুকুর খনন করলে উপার্জনের টাকা দিয়ে আমাদের ছেলে-মেয়ে নিয়ে কিছুটা হলেও নুন ভাত খেতে পারতাম।
জমি মালিক আব্দুল হাকিম পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। অধিক প্রকার ফসল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে। তাহলে মাছ কী খাদ্যর মধ্যে পড়েনা?
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জমি অনাবাদি/পতিত রাখলে ওই জমি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০-এর ৯২ ধারা অনুযায়ী খাস খতিয়ানভুক্ত করার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
পুকুর খননের বিষয়ে আইনজীবী রোকন উদ্দিন বলেন, কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী ‘বাংলাদেশের যে স্থানে কৃষি জমি রহিয়াছে, তাহা এই আইনের মাধ্যমে সুরক্ষা করিতে হইবে এবং কোন ভাবেই তাহার ব্যবহার ভিত্তিক শ্রেণী পরিবর্তন করা যাইবেনা। কৃষি জমি এক ফসলী বা একাধিক ফসলী যাহাই হোক না কেন তা কৃষি জমি হিসাবেই ব্যবহার করিতে হইবে।
তবে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা ভূমি কর্মকর্তা বরাবর আবেদনের মাধ্যমে উক্ত ভূমির ব্যবহারগত শ্রেণী পরিবর্তনের সুযোগও রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাগমারা আউসপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শাফি বলেন, পুকুর খননকে কেন্দ্র করে আনিছুর রহমান পুটুর সাথে কোন্দা হরিপুর গ্রামের কিছু সংখ্যক লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডা হয়েছে। তবে চাঁদার দাবির বিষয়টি পুটুর মুখে শুনেছি।
এব্যাপারে বাগমারা থানার এসআই সেকেন্দার আলী বলেন, থানার একটি জিডি বিজ্ঞ আদালত থেকে তদন্তের জন্য আমাকে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছি। তদন্ত শেষে আদালতে পাঠানো হবে, তবে জিডিতে চাঁদার কথা উল্লেখ নাই বলে জানান তিনি।
সনি বাংলা ডট কম/ই আবি





