ইফতেখার আলম বিশাল: রাজশাহী মহানগরীতে পুলিশ সদস্যকে অপহরণ, নির্যাতণ ও ছিনতাই মামলার প্রধান আসামী কুখ্যাত ছিনতাকারী রুমেল ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে এসআই মোস্তফা ও সঙ্গীয় ফোর্স।
গ্রেপ্তার ছিনতাইকারী মোঃ রুমেল (৩০), সে নগরীর তারাইমারী পাওয়ার হাউজপাড়া (বেদে পাড়া) এলাকার মৃত জাহেদালীর ছেলে। ও তার সহযোগী একই থানার চর-শ্যামপুর এলাকার মৃত মঈন উদ্দিনের ছেলে।
বুধবার সন্ধায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাফিজুর রহমান।
প্রসঙ্গত-পুলিশ সদস্য জয়ন্তু কুমার (২৯৬০) দাঙ্গা দমন বিভাগ, পুলিশ লাইন আরএমপি রাজশাহী রাজশাহীতে কর্মরত । তিনি গত বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) নগরীর রাজপাড়া থানাধীন রেঞ্জ ডিআইডি অফিসের সামনে থেকে বাজারে আসার জন্য একটি অটোতে ওঠেন।
ওই সময় মুখে মাস্ক পরিহিত দুইজন যুবক অটোতে ছিলো। ৩ থেকে ৪ মিনিটের মধ্যে মাস্ক পরিহিত দুইজন যুবকের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যের মুখে রুমাল ধরলে তিনি তাৎক্ষনিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
এদিন ইফতারের আগে জ্ঞান ফিরে দেখেন তিনি একটি বাসার মেঝেতে পড়ে আছেন। পাশে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাকে বলে যা আছে বের করে দে। ভয়ে তিনি তার কাছে থাকা নগদ ৩৫০০/-টাকা দেন। তবে ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ২টি রূপার আংটি ও ১টি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেয় তারা।
এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে এবং আরও টাকা দাবি করে। পরবর্তিতে পুলিশ সদস্যর কাছে রক্ষিত ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড কেড়ে নেয় এবং পিন নম্বর চায়। নম্বর না দেওয়ায় তাকে ব্যাপক মারধর করে। নিরুপায় হয়ে তিনি তার কার্ডের পিন নম্বর বলে দেন। পিন নম্বর পেয়ে উদয়, পলাশ ও রকি মিলে তালাইমারী ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে ঢুকে কার্ড থেকে ৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে।
অতিরিক্ত মারধরের কারণে পুলিশ সদস্য জয়ন্তু কুমার পূণরায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে জ্ঞান ফেরানোর জন্য ছিনতাইকারীরা সিগারেটের আগুন দিয়ে হাতে ও পায়ে ছ্যাক দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এদিন সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারীরা নিজেদের বাঁচানোর জন্য ওই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রেডিও (বেতার) সেন্টারের মাঠে বাগানে ভেতর নিয়ে ফেলে রাখে।
এক সময় জ্ঞান ফিরলে তিনি উঠে দাড়ালে তাকে পলাশ, উদয় পাওয়ার হাউজ পাড়া এলাকার কুখ্যাত চোর ও ছিনতাইকারী জাহেদালির ছেলে রুমেল তাকে মারধর করতে থাকে।
ওই সময় আশে পাশে বসতির বসবাসরত ও মোটর শ্রমিকের কাজে জড়িত লোকজন এগিয়ে আসলে অটোচোর বলে চিৎকার করে অপহরণকারী ও ছিনতাইকারীরা। এ সময় জনতা পুলিশকে খবর দেওয়ার জন্য ৯৯৯-এ ফোন দিলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।
বিষয়টি লোকমুকে শুনে মতিহার থানা পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে। এ ব্যপারে ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৪।
ওসি বলেন, আসামীরা সংঘবদ্ধ চোর ও ভয়ংকর ছিনতাইকারী একটি চক্র। তাদের পুরো রাজশাহীজুড়ে নেটওয়ার্ক রয়েছে। এদের লিডার পাওয়ার হাউজপাড়ার জাহেদালির ছেলে রুমেল। তারা সকলেই মাদক সেবন করে। মাদক সেবনের টাকার জন্য অপহরণ, চুরি, ছিনতাই এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করে না।
একই মামলায় বৃহস্পতিবার এই চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো: মোঃ পলাশ কবির (২৫), সে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন হড়গ্রাম বাজার এলাকার মৃত সুরে জামালের ছেলে, মোঃ সাগর ইসলাম অরফে ইমন (২৯), মতিহার থানাধীন সোরাফানের মোড় আমবাগান এলাকার মোঃ সামাদ মন্ডলের ছেলে, মোঃ রকি (৩৫), বোয়ালিয়া থানাধীন শিরোইল কলোনী দোসর মন্ডলের মোড় এলাকার মোঃ আব্দুর রহমানের ছেলে ও একই থানার মৃত ইসলাম শেখের ছেলে মাঃ সোহেল (৪০)।
এদিকে, মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন চোরকে গ্রেফতার করেছে এসআই সুভাষ ও সঙ্গীয় ফোর্স।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো: মতিহার থানাধীন ধরমপুর সুরাপানের মোড় এলাকার শহিদের ছেলে মোঃ শাকিল (২৩), একই থানার তালাইমারী বালু ঘাট এলাকার তৈয়ব মন্ডলের ছেলে মোঃ নসিব (২৩) ও চন্দ্রিমা থানাধীন কেচুয়াতৈল গ্রামের বাবুলের ছেলে মোঃ জাহেদুল ইসলাম হৃদয়।
বুধবার সকালে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশেরে দায়ের করা মামলায় ও আটক তিন চোরকে চুরির মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানায় ওসি।
সনি বাংলা ডট কম/ইআবি





