স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীতে পুলিশের এসপি পরিচয়ে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে মোঃ সাইফুদ্দিন আহমেদ (আজাদ) ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তার শ্যামলী নামের এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুর সোয়া ২টায় রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার অক্ট্রয় মোড়স্থ রিভার সিটি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চারঘাট থানার আস্করপুর সারদা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে কৌশিক আহমেদ। তিনি জানান, ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ও ১০ আগস্ট বালিয়াপুকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে প্রতারক দম্পতি তার কাছ থেকে সহযোগী রাসেদুল ইসলাম মানিকের মাধ্যমে দুই দফায় মোট ৮ লাখ টাকা নেন। মানিক চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে এসপি দম্পতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ওই দম্পতি ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করেন। চাকরিতে যোগ দিতে গিয়ে কৌশিক বুঝতে পারেন, নিয়োগপত্রটি ভুয়া।
তিনি বলেন, পরে টাকা ফেরত চাইলে সেনাবাহিনীর ‘স্টোরম্যান’ পদে আরেকটি ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। ঢাকায় সেনা সদর দফতরে গেলে কর্তব্যরত সেনাসদস্য বলেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি তার টাকা ফেরত পাননি।
একই অভিযোগ তুলেছেন আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী:
মোঃ রেজাউল করিম, চারঘাটের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে, জানান ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বালিয়াপুকুরে আজাদ-শ্যামলীর বাসায় গিয়ে ভাতিজার চাকরির জন্য ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। একই কৌশলে তাকেও প্রতারিত করা হয়।
মাহাবুবুর রহমান, কর্ণহার থানার দারুসা শাইর পুকুর এলাকার মৃত মোজাফফর হোসেনের ছেলে, ২০২১ সালের জুলাই মাসে আজাদ ও শ্যামলীর হাতে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন। তাকে রাজশাহী পুলিশ হেড কোয়ার্টারে অফিস সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। পরে বুঝতে পারেন তিনিও প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
মোঃ খাইরুল হাসান রিংকু, গোদাগাড়ী থানার হরিণ বিসকা গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে, জানান তিনি কথিত এসপি দম্পতিকে ২৫ লাখ টাকা নগদে দেন। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা স্ত্রীর চাকরি এবং ১৫ লাখ টাকা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রস্তাবে দেন। বর্তমানে এই ঘটনায় চেক ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে দায়ের করা মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারক দম্পতির সহযোগী হিসেবে কাজ করেন সারদা এলাকার রাসেদুল ইসলাম মানিক। তাদের প্রত্যাশা, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, র্যাব-৫ এর অধিনায়ক এবং রাজশাহী সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে মোঃ সাইফুদ্দিন আহমেদ (আজাদ) ও নাহিদা আক্তার শ্যামলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।




