নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী নগরীতে দুই ট্রাকের চিপায় হেলফার শহিদুল ইসলামকে চিকিৎসা না দিয়েই হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে ট্রাক মালিক ও শ্রমিক নেতা বিরুদ্ধে।

তড়িঘড়ি করে কোনো রকম ট্রাকে তুলে দেশের বাড়ি ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ী এলাকায় পাঠিয়ে দেয়ার চিন্তা ছিল তাদের। কাজটি করা হয়েছিল মুলত মামলা ও হয়রানি থেকে বাচার তাগিদে”।
কিন্তু থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের চাপের মুখে আ্যম্বুলেন্সে করে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ওই আহত হেলফার শহিদুল ইসলামকে।
বর্তমানে শহিদুল ইসলামের অবস্থা আসংখ্যাজনক। তার তলপেটে চাপ লেগে রক্তক্ষরণ হতেপারে বলে এমনটা আসংখ্যা করছেন হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। তবে পরিক্ষা নীরিক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
আহত শহিদুল ইসলাম (২০) ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ী থানাধীন দত্তপাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে।
আজ রবিবার (২০ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে চন্দ্রিমা থানার শিরোইল কলোনী বিশ্বগোডাউনে (বাফার) এঘটনা ঘটে।
ঢাকা মেট্র ট ১৬-৫১৫৬ নম্বর ট্রাক চাপা দেয় শহিদুল ইসলামকে। ওই ট্রাক মালিকের নাম আলী (৫৫)। তিনি নিজেই তার গাড়ির চালক।

আহত হেলফার শহিদুল ইসলামের ড্রাইভার মজনু মিয়া বলেন, আমি কুষ্টিয়া ট ১১-১৬৩৯ নম্বর ট্রাকে সার নিয়ে আসি বাফার গুদামে। আনলোডের সিরিয়াল পেয়ে ট্রাকের পেছনে দাড়িয়ে ট্রিপল খুলার কাজ করছিলো শহিদুল। এসময় ঢাকা মেট্র ট ১৬-৫১৫৬ নম্বর গাড়ির হেলফার সাগর (২৩) গিয়ারে থাকা অবস্থায় তার ট্রাক স্টার্ট করে। স্টার্ট করা মাত্রই গাড়িটি লাফ দেয়। এতে দুই গাড়ির মাঝখানে চিপা পড়ে শহিদুল ইসলাম।
এরপর ওই ট্রাকের হেলফার সাগর ট্রাক রেখে পালিয়ে যায়। অন্য একটি ট্রাকের ড্রাইভার গাড়িটি ব্যাক গিয়ার দিয়ে পিছনে নিলে শহিদুল ইসলাম পড়ে যায়।
এঘটনায় শহিদুলের মাজা ও পেটে ব্যাপক চাপ লাগে, এছাড়া তার মাথা ও মুখে রক্তক্ষরণ হয়।
পরে দুই ট্রাকের ড্রাইভার ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা কিরোন, শহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে আউটডোরে টিকেট নিয়ে শহিদুল ইসলামের এক্সরে করা হয়। এরপর অন্যান্য পরিক্ষা নীরিক্ষা না করেই তাকে ট্রাকের কাছে নিয়ে আসে আলী ও শ্রমিক নেতা কিরোণ ।
ঘটনাস্থলে শহিদুল ইসলামকে ব্যাথা আর যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে নেতা কিরোণ ও ড্রাইভার আলী।
পরে ট্রাক ইউনিয়নের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন এসে আ্যম্বুলেন্সে করে পুনরায় হাসপাতালে পাঠায়।
এ ব্যাপারে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ট্রাকটি সভাপতি ফরিদ উদ্দিনের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হবে।
সনি বাংলা ডট কম/ই আবি





