• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

পদ্মা নদীতে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন

প্রকাশ: বুধবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ৩:২২

পদ্মা নদীতে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন

অনলাইন ডেস্ক: আমাদের দেশে বড় বড় শহরে প্রয়োজনীয় গাছপালা না থাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে দিন দিন পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

আমাদের দেশে বড় বড় শহরে প্রয়োজনীয় গাছপালা না থাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে দিন দিন পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, শহরাঞ্চলে এখন বসবাস করাই দায় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে রাজশাহী অনাবৃষ্টি-খরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এরপরও রাজশাহী হচ্ছে দেশের একমাত্র সবুজ নগরী। এ শহর পদ্মা তীরবর্তী হওয়ায় নদীভাঙন থেকে রক্ষা করতে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের অদূরে চলছে নিয়মনীতিবহিভর্‚ত বালু উত্তোলন। নদীশাসন ও পদ্মাপাড়ের ভ‚মি উদ্ধারে কোনো নীতিমালার তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। এতে শহর রক্ষা বাঁধসহ নদীপ্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ছে।

একটি সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজশাহীর পবা উপজেলার চরশ্যামপুর ও দিয়ার খিদিরপুরে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে অবৈধ বালুমহাল ইজারা দেয়া হয়েছে। বালুমহাল ইজারা দেয়ার পক্ষে ওকালতি করে রাজশাহীর তৎকালীন ডিসি (সাবেক) ২০২৩ সালের ১ জুন লিখেন, ‘বালুমহালগুলো ইজারা দিয়ে সরকার প্রতি বছর বিপুল রাজস্ব আয় করে। এ থেকে যে আয় হয় তা নিয়ে রাজশাহী জেলার সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদিত হয়ে থাকে।’

একটি রিট মামলার আদেশে হাইকোর্ট পদ্মার তালাইমারী ঘাট, কাজলা ও বাজেকাজলা ঘাট ব্যবহার করে বালু উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেন। উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসন অবৈধ তালাইমারী ঘাটের ওপর সাইনবোর্ড টাঙিয়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। কিন্তু দেড় বছরের মাথায় ইজারাদার পরিবর্তন করে ফের বহাল করা হয় বালু মজুদ ও পরিবহন। অথচ রাজশাহীর পদ্মা নদীতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১১-এর তিন নম্বর ধারায় হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করে বালু উত্তোলনের নির্দেশনা রয়েছে।

অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া বালু উত্তোলনে রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধ হুমকিতে পড়েছে। শুধু তাই নয়, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ, গতিপথ, জলজ পরিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা করা হচ্ছে। সঙ্গত কারণে বালু উত্তোলন বন্ধ করা উচিত। যত লাভজনক হোক না কেন; জনস্বার্থে শহর এবং শহর রক্ষা বাঁধের কাছাকাছি কোথাও কোনো বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না, এটি অস্তিত্বের প্রশ্ন। আর বিশেষজ্ঞদের দিয়ে হাইড্রোগ্রাফিক পরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ে নদীশাসন এলাকা বা সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে যেকোনো সময় বালু ও ভ‚মিধস এবং শহর রক্ষা বাঁধ ধসে যেতে পারে। এসব বন্ধ করা না হলে ভবিষ্যতে পদ্মা নদীর প্রবাহ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ কারণে শহর রক্ষা বাঁধের আশপাশে সব ধরনের বালু বা মাটি উত্তোলন বন্ধের পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজশাহী শহরের পদ্মা তীরবর্তী ভ‚মি উদ্ধার করে নদীশাসন এলাকা তৈরি এবং খনন করে নদীপথ সচল রাখতে হবে।

নদী বিশেষজ্ঞদের মতো আমরাও মনে করি, রাজশাহী শহরের আশপাশে পদ্মায় বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে হবে, নদীর জমি উদ্ধার করে টি-বাঁধের মতো বাঁধ নির্মাণ করে শহর রক্ষা বাঁধের সংস্কার করতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮