অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী মহানগরীতে সেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা মার্কেট দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই মাকের্টটি নগরীর ঐতিহ্য চত্বরের পাশে বহরমপুর এলাকায়। মার্কেটটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি সমিতির।
দখল করা সেচ্ছাসেবক দলের নেতার নাম মো. ইব্রাহিম। তিনি মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে সেখানকার একটি বাড়ি দখলের অভিযোগও আছে। অভিযোগ উঠেছে, মার্কেট দখল করে তিনি নিজেই কার্যালয় করেছেন। এখানে গভীর রাত পর্যন্ত চলে আড্ডা। বিভিন্ন রকম মাদকসেবীরাও এখানে আসে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ওই এলাকার বাসিন্দারা এ নিয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদধারী একজন নেতা। যিনি সরকারি কিছু স্থাপনা দখল করে মাদকসেবী কিছু টোকাই পোলাপান নিয়ে এখানে মাদকসাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে এবং রাত্রি হলে ছিনতাই করা হচ্ছে এটা নিয়ে আমরা এলাকাবাসী খুবই আতঙ্কিত এবং অতিষ্ঠ। এলাকাবাসী এলাকার সুষ্ট পরিবেশ এবং শান্তি, শৃঙ্খলা বিরাজ করার জন্য প্রশাসনিক সহযোগিতা ও নিয়মিত পুলিশি অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানান তারা।
মার্কেটটিতে প্রায় ৫টির মতো দোকান আছে। মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে বিএনপির রাজপাড়া থানা কার্যালয়ের ব্যানার ঝুলানো। সেখানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোক জানিয়ে ব্যানারও দেওয়া আছে। এই মার্কেটে একটি সেলুন আছে যা ভাড়া দিয়েছেন ইব্রাহিম নিজেই। সেখান থেকে প্রতি মাসে তিনি ভাড়া নেন।
এর আগে এখানে বিআরটিসির বাস কাউন্টার ছিল। ফ্লাইওভারের কাজ চলমান থাকায় কাউন্টারগুলো বন্ধ গেটে সরিয়ে মার্কেটটি ফাঁকা থাকার কারণে সহজে দখল নিয়েছে সেচ্ছাসবক দলের নেতা।
এই নেতার বিরুদ্ধে নাসিরুল ইসলাম রঞ্জু নামের এক ব্যক্তির বাড়ি দখলের অভিযোগও আছে। বাড়িটি তিনি দলীয় কার্যালয় করার জন্য দখলে নেন। রঞ্জু থানায় অভিযোগ করলে মামলা এখন আদালতে আছে। এ বিষয়ে নাসিরুল ইসলাম রঞ্জু বলেন, ওই সময় আমার বাসায় অস্ত্র নিয়ে ঢুকে আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও বাসা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এবং বাসা থেকে উৎখাত করে। এর নেতৃত্ব দিয়েছে ইব্রাহিম নিজেই। ৫ আগস্টের থেকে সে বেপরোয়া হয়ে গেছে। আমি মামলা করলে এরপর থেকে তারা নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এবং আমাকে মারধরও করেছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিমকে কয়েকবার কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





