• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

রাজশাহীতে চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬ থেকে ১০ টাকা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ৫:৫৫

রাজশাহীতে চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬ থেকে ১০ টাকা

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহীতে বেড়েই চলেছে চালের দাম। গত ১০ দিনে পাইকারি বাজারে বস্তাপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এসব চালের মধ্যে কাটারি, জিরাশাইল, নাজিরশাইল ও মিনিকেটের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬ থেকে ১০ টাকা। ফলে নিম্নআয়ের মানুষ পড়েছেন চরম বেকায়দায়। যুগান্তর

দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ী ও চালকলের মালিকরা বলছেন, অনেক ফড়িয়া ব্যবসায়ী ধান মজুত করেছেন। তাদের কাছ থেকে বেশি দামে ধান কিনতে হচ্ছে। এজন্য চালের বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এটি বাজারে গিয়ে বাড়তি দর ৫০০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

তবে পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, চালকলের মালিকরা দাম বাড়াচ্ছেন। আর খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, সব দোষ পাইকারি ব্যবসায়ীদের। কারণ চালকলের মালিকরা এক টাকা বাড়ালে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাড়ায় দ্বিগুণ।

রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারে গত দুই সপ্তাহ ধরে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বৃহস্পতিবার বাজারে বিআরআই-২৮ জাতের চাল কেজি বিক্রি হয়েছে ৬৫-৬৮, এটি ১০ দিন আগে ছিল ৬০-৬৫ টাকা। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৭৮-৮০ টাকা। এটি ছিল ৬৮-৭৫ টাকা। নাজিরশাইল বর্তমানে ৮০-৮৬ টাকা। আগে ছিল ৭০-৭৮ টাকা। গুটি স্বর্ণার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা। কয়েক দিন আগে ছিল ৫০-৫৫ টাকা।

মহানগরীর লক্ষ্মীপুর বাজারে চাল কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যারা নির্দিষ্ট আয় করি বা যারা খেটে খাই তাদের কষ্ট তো সরকার বোঝে না, ব্যবসায়ীরাও বোঝে না। দাম বাড়ার কারণে আমি এখন চাল কম করে কিনছি।

আরেক ক্রেতা আহমেদ বলেন, আমাদের জমিজমা না থাকায় সারাবছর চাল কিনতে হয়। নতুন সরকারের আমলে ভেবেছিলাম দাম কমবে; কিন্তু এখন দেখছি আরও বাড়তি।

সাহেববাজারের চাল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, দাম বাড়ানোয় আমাদের কোনো হাত নেই। কারণ আমরা পাইকারি দরে কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করি। দাম বাড়ার কারণ চালকল মালিকরাই ভালো বলতে পারবেন।

চালকলের মালিকরা বলছেন, এখন মিলপর্যায়ে প্রতি বস্তা আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২৫০ থেকে ৩ হাজার ৩৫০ টাকায়। মোটা চালের বস্তা ২ হাজার ৭৫০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা ও জিরাশাইল ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। এই চাল আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে গেলে প্রতি বস্তায় বেড়ে আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা যোগ হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে আরও এক দফা দাম বাড়ায় ক্রেতার কাছে যেতে প্রকারভেদে বস্তায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকাও বাড়ছে।

বুধবার রাজশাহীতে খুচরা বাজারে আটাশ চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৭২-৭৫ টাকা দরে। গুটি স্বর্ণা বিক্রি হয়েছে ৬৩-৬৫ টাকা ও জিরাশাইল ৮০ টাকা দরে।

নগরীর হড়গ্রাম এলাকার আমেনা স্টোরের মালিক হাফিজুল ইসলাম বলেন, আড়ত থেকে চাল কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে আমাদের। গত ১০ দিনে দাম বেড়েছে। প্রতি বস্তায় ৩০০-৫০০ টাকা বাড়তি।

কামাল অটোরাইস মিলের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেন বলেন, এখন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ধান মজুত করে রেখেছেন। তারা বাড়তি দাম না পেলে ধান ছাড়ছেন না। ফলে তাদের কাছ থেকে বেশি দামেই ধান কিনতে হচ্ছে। আমাদের খরচও আছে। এ কারণে বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাজশাহী চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, চালের দাম বাড়লেই আমাদের দোষ হয়; কিন্তু এখন ধানের দাম বাড়তি থাকায় চাল করতে বেশি খরচ পড়ছে। এ কারণে মিল থেকে দাম বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের পাশাপাশি ধানের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ধান মজুত করছেন। দাম বেশি না পেলে বিক্রি করছেন না। চালের বাজারে তার প্রভাব পড়েছে।

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান চলছে। চাল ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে। এরপরও যারা সতর্ক হচ্ছেন না, তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮