বিনোদন ডেস্ক: সপ্তাহের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিষিদ্ধ করেছে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ ছবিকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ছবিতে সাম্প্রদায়িক উস্কানি রয়েছে। অশান্তি এড়াতেই ছবি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ছবিটি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন ছবির নির্মাতারা। তাঁরা অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। অন্য দিকে ব্যবসায়িক সাফল্যের নিরিখে সারা দেশে প্রায় মাত্র ৩ দিনে এই ছবি ৩৫ কোটির গণ্ডি পার করে ফেলেছে। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ ছবিটিকে করমুক্ত করেছে।
রবিবার রাতে কলকাতার একাধিক প্রেক্ষাগৃহে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ দেখতে ভিড় করেছিলেন দর্শক। তবে যে মুহূর্তে সরকারি নির্দেশ হাতে এসেছে, তার পর আর ছবিটি প্রদর্শন করেননি হল মালিকরা। মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ ছবির পরিচালক সুদীপ্ত সেন সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছবিটি না দেখেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক।’’ এই প্রসঙ্গেই তিনি আরও বলেন, ‘‘ছবিটার জন্য পশ্চিমবঙ্গে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেনি। এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’’ ছবিটি রবিবার পর্যন্ত রাজ্যে দেড় কোটি টাকার ব্যবসা করেছে বলেই জানান হল মালিকরা।
উল্টো দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছবির প্রযোজক বিপুল অম্রুতলাল শাহ। শুধু এই ছবি প্রযোজক নন। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইল্স’ প্রসঙ্গও টেনে আনেন মমতা। একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে হেনস্থা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইল্স’, মন্তব্য করেন তিনি। মমতার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবারই মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ‘দ্য কাশ্মীর ফাইল্স’ ছবির পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। মঙ্গলবার মমতাকে আইনি নোটিস পাঠান তিনি। বিবেক সমাজমাধ্যমের পাতায় লেখেন, ‘‘বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সম্পূর্ণ ভুল ও আপত্তিকর মন্তব্যের দ্বারা ‘দ্য কাশ্মীর ফাইল্স’ ও আমাদের আগামী ছবি ‘দ্য দিল্লি ফাইল্স’-এর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এই মর্মে আমি, অভিষেক আগরওয়াল ও পল্লবী জোশী তাঁকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছি।
সনি বাংলা ডট কম/ইআবি

















