• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

হরমুজ পার নিয়ে আশঙ্কা এখনো অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:৫৩

হরমুজ পার নিয়ে আশঙ্কা এখনো অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ

অনলাইন ডেস্ক: সৌদি আরবের একটি বন্দর থেকে গত বুধবার বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ জয়যাত্রা হরমুজ পার হতে রওয়ানা দেয়। সার বোঝাই ওই জাহাজ শুক্রবার (আজ) হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার কথা।

এছাড়া ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে গত ২ মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে এমভি নরডিক পুলেক্স নামের একটি জাহাজ। যুদ্ধবিরতির খবরে সেটি রওয়ানা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল।

কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদটি ঝুলে যায় লেবাননে ইসরাইলের নতুন হামলার কারণে। ওই দুই জাহাজের মধ্যে কোনোটিই হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি এখনো পায়নি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, খবরটি সুখকর নয়। হরমুজ পার হওয়ার কোনো অনুমতি পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই জয়যাত্রা এবং নরডিক্স পুলেক্স হরমুজ পার হবে না। সেটি বিএসসির সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষে বিএসসি নরডিক পুলেক্স ভাড়া করে দিয়েছিল। এখন সেটির তদারকির সব দায়িত্ব বিএসসির।

কমোডর মাহমুদুল মালেক আরও বলেন, শুক্রবার রাতে জয়যাত্রা হরমুজের একেবারে কাছাকাছি থাকবে। কিন্তু ইরান সরকারের অনুমতি ছাড়া জয়যাত্রা হরমুজ পার হবে না।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইরানে সাময়িক যুদ্ধ বিরতিতে বিশ্বজুড়ে স্বস্তি নেমে এলেও লেবাননে ইসরাইলের হামলার কারণে ইরান হরমুজ প্রণালির ব্যাপারে ফের নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। লেবাননে ইসরাইলের হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে ইরান আপাতত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেশির ভাগ জাহাজ বন্ধ রেখেছে।

এদিকে পেট্রোলপাম্পের ভোগান্তি কমাতে রাজধানীতে প্রাথমিকভাবে ফুয়েল পাশের সেবা চালু করা হয়েছে। ‘ফুয়েল পাশ’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের (অ্যাপ) মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর দুটি পেট্রোলপাম্পে মোটরসাইকেলের চালকরা এই পাশের মাধ্যমে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মুনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে তেল মজুত এবং আতঙ্ক না কমলে ফিলিং স্টেশনে মোটরবাইক ও কারের লাইন কমবে না। তবে সরকারের কাছে যথেষ্ট তেল আছে। বিশেষ করে অকটেন এবং পেট্রোল আগামী দুই মাসের মজুত আছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব পেট্রোলপাম্পকে আগের বছরের বিক্রির হিসাব অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে ডিপো থেকে। কিন্তু চাহিদা অস্বাভাবিক। এই অস্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী সবাইকে তেল দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সবার জন্য স্বস্তি। এতে করে মনে করা হয়েছিল হরমুজ প্রণালি শিগগির খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু বুধবার রাত থেকে আবারও মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় সেই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। তাই বাংলাদেশের তেলের জাহাজ এখনো আটকে আছে হরমুজ প্রণালির ওই পারে।

তিনি জানান, বিশ্বপরিস্থিতি যাই থাকুক সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশে তেলের মজুত থাকবে ৯০ দিন। এজন্য জ্বালানি বিভাগ কাজ করছে।

অ্যাপের বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, তেলের বিতরণ ব্যবস্থায় পুরোনো প্রক্রিয়ার কারণে বিলম্বসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। আবার একই ব্যক্তি একাধিকবার এসে সারিতে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন, যা জ্বালানির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যবস্থা জ্বালানির বিতরণ প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করবে। তাৎক্ষণিক নজরদারির আওতায় নিয়ে আসবে। এই অ্যাপের বিআরটিএ কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে সংযোগ থাকবে। এছাড়া গ্রাহকদের কারও স্মার্টফোন না থাকলেও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন এবং কিউআর কোড ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ফিলিং স্টেশনের মালিকরা ডিজিটাল মাধ্যমে এন্ট্রি করার পর গ্রাহকদের জ্বালানি তেল বিতরণ করতে পারবেন। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে একজন গ্রাহক জ্বালানি নিতে পারবেন। সেই সঙ্গে তার জন্য পূর্বনির্ধারিত তেলের বরাদ্দের পরিমাণ দেখতে পারবেন।

ফুয়েল পাশের ব্যাপারে যুগ্মসচিব বলেন, আপাতত মোটরসাইকেলের চালকদের জন্য ফুয়েল পাশ চালু করা হয়েছে। তবে সবকিছু সিস্টেমে আসতে কিছুটা সময় লাগবে। এই পাশ দিয়ে এখন তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট এবং মোহাম্মদপুরের সোনার বাংলা পাম্পে তেল নেওয়া যাবে।

জ্বালানি বিভাগ আরও জানিয়েছে, দেশে এখন ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন ডিজেল, ৯ হাজার ৫৬৯ টন অকটেন, ১৬ হাজার ৮১২ টন পেট্রোল মজুত আছে।

প্রতিলিটার ডিজেল সরকারের আমদানি মূল্য হচ্ছে ১৫৫ টাকা। আর বিক্রি করছে ১০০ টাকায়। এ কারণে এক মাসে ডিজেল বিক্রি করে সরকারের লোকসান আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা। প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৭ লিটার, পেট্রোল ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার এবং অকটেন ৩৬ হাজার ৬১২ লিটার।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮