স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে উত্তাল রাজপথরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হামলার বিচার, কোটা সংস্কার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদের কারণে কয়েক দফা বন্ধ হয়ে পড়ে ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়রা।
আগুন, স্লোগান আর অবরোধে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস এলাকা
বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে কাজলা ও বিনোদপুর গেট এলাকা। সেখানে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। আগুনের শিখা ও গগনবিদারী স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। আন্দোলনের ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর অন্যতম প্রধান সড়ক যোগাযোগ একাধিকবার বিচ্ছিন্ন হয়।
আন্দোলনের পেছনের প্রেক্ষাপট
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ভূমিকা রেখেছে—
২০ নভেম্বর ২০২৫: সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।
সেপ্টেম্বর ২০২৫: বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও ও রাজপথে অবস্থান।
জুলাই ২০২৪: কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে দীর্ঘ সময় মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ কর্মসূচি।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
১. শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার।
২. অযৌক্তিক কোটা বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা।
৩. ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার ও বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ।
এক বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বলেন,
“আমরা পড়াশোনায় ফিরতে চাই। কিন্তু নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।”
সংঘর্ষ ও উত্তেজনা
বিক্ষোভ চলাকালে কয়েক দফা স্থানীয়দের সঙ্গে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। কিছু সময় রেললাইন অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়।
প্রশাসনের অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারীরা বলছেন, দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাস ও আশপাশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।





