• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

রাজশাহীর বিশুদ্ধ পানির যুগান্তকারী পরিবর্তন: মিনুর সময়েই ঘরে ঘরে পানি

প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:৫৬

রাজশাহীর বিশুদ্ধ পানির যুগান্তকারী পরিবর্তন: মিনুর সময়েই ঘরে ঘরে পানি

রাজশাহী প্রতিনিধি: ৯০ এর দশকে রাজশাহী মহানগরীতে বিশুদ্ধ খাবার পানির চরম সংকট ছিল। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে চারিদিকে রোগবালাই লেগেই থাকতো। ডায়ারিয়ার প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। ১৯৯১ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নগরবাসীর জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের বিষয়টি আগে ভাবেন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিন বছরের মধ্যে নগরীতে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করেছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। এটি ছিল রাজশাহী মহানগরবাসির জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তৎকালীন রাসিক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুকে ৯০দশকের পরের মানুষ উন্নয়নের যাদুকর নামে ডাকতেন। পরবর্তিতে মিজানুর রহমান মিনুর নামের আগে রাজশাহীর উন্নয়নের রুপকার হিসাবে ভূষিত করা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, নগরায়ন, শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনই নয়, ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এমন কোনো টেকসই উন্নয়ন নেই যা মিজানুর রহমান মিনু নগরবাসির জন্য করেননি।

এক সময় রাজশাহীতে বিশুদ্ধ খাবার পানির একমাত্র উৎস ছিল পুঠিয়ার মহারানি হেমন্ত কুমারীর ঢোপকল। সময়ের পরিক্রমায় নগরীর এই বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহ দিনদিন কমতে থাকে। মহারানি হেমন্ত কুমারীর স্থাপন করা ঢোপকলগুলো একেবারে অকেজো হয়ে পড়ে। শুরু হয় পানির জন্য হাহাকার। নগরীতে হাতে গোনা কিছু মানুষের বাড়িতে টিউবওয়েল ছিল। কিন্তু নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিববারের মানুষের বাড়িতে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা ছিল না। তৎকালীন রাসিকের মেয়র মিজানুর রহমান মিনু নগরীরবাসির কথা চিন্তা করে টিউবওয়েলের পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি পানির ব্যবস্থার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। তার প্রচেষ্টায় ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত একটি যুগান্তকারী প্রকল্পের অধিনে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিটি বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি পানির সংযোগের ব্যবস্থা করেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে বিশুদ্ধ খাবার পানির সমস্যা সমাধানে প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। ওই প্রকল্পের আওতায় ৪টি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, ৩০টি উৎপাদক নলকূপ এবং নগরীর ২৩১.৪৮কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করেছিলেন মিনু। মাত্র দুবছরের মধ্যে পুরো নগরীর বাসাবাড়িতে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নগরবাসির ভাষায় এতো অল্প সময়ের মধ্যে এতো বড় যুগান্তকারী পদক্ষেপ রাজশাহীর আর কোনো জনপ্রতিনিধি নিতে পারেননি। মিজানুর রহমান মিনুর দক্ষতা ও প্রচেষ্টায় রাজশাহী মহানগরীতে অভাবণীয় উন্নয়ন করতে পেরেছিলেন। এরআগে রাজশাহী মহানগরীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা হয় ১৯৩৭ সালে। পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালের পর হতে বাংলাদেশ সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহী মহানগরীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেয়। যদিও এই ব্যবস্থাপনা সীমিত আকারে ছিল।
প্রথম পর্যায়ের বিশুদ্ধ পানির সমাধান হওয়ার পর নগরবাসির পানির সমস্যার স্থায়ী ব্যবস্থার জন্য বড় প্রকল্প হাতে নেন মিনু। এর আওতায় ৪টি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, ৩০টি উৎপাদক নলকূপ এবং নগরীর ২৩১.৪৮কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমান রাজশাহী নগরীতে ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করে সেই প্রকল্পটি এনেছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি পদ্মার ধারে পানি শোধনাগার স্থাপন করেন। সেই সময় ও বর্তমান সময় নগরবাসির পানির যে চাহিদা পুরণ করছেন তা ছিল মিজানুর রহমান মিনুর অবদান। যদিও পরবর্তিতে ২০১০ সালে ওয়াসা প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশুদ্ধ খাবার পানির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মুল কারিগর ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। ১৯৯৪ সালে নগরীর বাসাবাড়িতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে যে পানি সরবরাহ করা হতো সেই পানি যেমন পান করা যেতো, তেমনি দৈনন্দিক ব্যবহার করা যেতো। আর এর মূল্য ছিল একেবারে সীমিত। সীমিত পানির বিল দিয়ে নগরবাসি মান সম্মত পানি পেতো। আর নগরীরবাসির বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহের বিষয়টি ছিল মিজানুর রহমান মিনুর একটি সেবার অংশ। কিন্তু পরবর্তিতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ওয়াসাকে দলীয়করণ করে পানি সরবরাহের নামে নগরবাসিকে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। বর্তমান ওয়াসার পানি ব্যবহারের অযোগ্য। কিন্তু মাসে দিতে হচ্ছে মোটা অংকের বিল।
নগরীর সাহেববাজার এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আসাদুল ইসলাম বলেন, ৮০ দশক থেকে ১০ বছর ৯০ দশক পর্যন্ত রাজশাহীতে বিশুদ্ধ খাবার পানি ছিল অমূল্য সম্পদ। অনেকে পদ্মার পানি খাবার হিসাবে ব্যবহার করতো। ঢোপকল থাকলেও পানির মান ভাল ছিল না। পুরো সাহেববাজার এলাকার মধ্যে মাত্র তিনটি নলকুপ ছিল। মিজানুর রহমান মিনু মেয়র হওয়ার পর বিশুদ্ধ খাবার পানির বিষয়টি সবার আগে ভেবেছিলেন। প্রথমে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি করে সাধারণ মানুষের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন করেন। এরপর মানুষের বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি যা করে গেছেন তার পরে আর এই চিন্তা কেউ করেননি। বর্তমান যে পানি আমরা পাই তা ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। কিন্তু মাসের পর মাস আমরা মোটা অংকের টাকা বিল দিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, মিনুর সময় যে পানি বাসাবাড়িতে আসতে সেটি খাওয়াও যেতো, ব্যবহার করা যেতো। দাশপুকুর এলাকার প্রবীন ব্যক্তি হাফিজুর রহমান বলেন, এই অঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার পানির দুটি টিউবওয়েল ছিল তাও মিনুর করে দেয়া। পরে তিনি প্রতিটি বাড়ি বাড়ি বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করেছিলেন। ধরমপুর এলাকার ৬০উর্ধ ব্যক্তি রিক্সা চালক সুলাইমান বলেন, আমরা পদ্মা নদীতে গোসল করতাম। ওই পানি দিয়েই রান্নাবান্ন হতো। এতে রোগবালাই লেগেই থাকতো। মিজানুর রহমান মিনু প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে প্রথমে এলাকা ভিত্তিক টিউবওয়েল স্থাপন করেন। পরে তিনি বাসাবাড়িতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানির ব্যবস্থা করেন। নগরীর এসব সাধারণ মানুষের ভাষয় নগরীর টেকসই উন্নয়ন হয়েছে মিজানুর রহমান মিনুর আমলে। এরপর যা হয়েছে সেগুলো অপরিকল্পীত উন্নয়ন। যার কারণে এসব উন্নয়ন মানুষের খুব বেশি কাজে আসে না। নগরবাসির ভাবনায় এবার মিজানুর রহমান মিনু এমপি নির্বাচিত হলেও তার যে একটি আধুনিক রাজশাহী গড়ার স্বপ্ন ছিল সেটি পুরণ হবে। কারণ মিজানুর রহমান মিনুর উন্নয়ন মানেই টেকসই পরিকল্পীত উন্নয়ন।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮