স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে ডেভেলপার ব্যবসা করার জন্য ২২৫০ বর্গফুটের একটি ফ্লোর মাসিক ২৯ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিলেন সরকার জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তি। পরে চারতলা পুরো বাড়িটি দখলে নিতে তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নামে একটি সংগঠন খুলে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। সংগঠনের নাম দেন “মাদার অব ডেমোক্রেসি- বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ”।
বিষয়টি জানতে পেরে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বাড়িটিতে গিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে কার্যালয়টি উচ্ছেদ করেছেন।
নগরীর উপশহর এলাকার ২ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের ৯৬ নম্বর চারতলা বাড়িটির মালিক আকরামুল ইসলাম একজন অ্যাডভোকেট । তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত আইনজীবী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতির তিনবার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপরও তিনি তাঁর বাড়ি থেকে ভুয়া এ সংগঠনকে উচ্ছেদ করতে পারেননি।
ডেভেলপার ব্যবসা করার জন্য ভাড়া নিলেও বাড়ির মালিক আকরামুল কিছুদিন পর দেখতে পান, বাড়ির সামনে মাদার অব ডেমোক্রেসি—বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ নামের এক সংগঠনের জেলা ও মহানগর কার্যালয় হিসেবে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর কয়েকদিন পর শতাধিক মানুষ এনে মাইক বাজিয়ে কর্মসূচিও পালন করা হয়। এ অবস্থায় বাড়ির অন্য ভাড়াটেরা চলে যাচ্ছিলেন।
লিগ্যাল নোটিশ দিয়েও ভাড়াটেকে বাড়ি ছাড়াতে না পারায় শনিবার আইনজীবীর ছেলে সায়েমুল ইসলাম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির কতিপয় নেতা-কর্মী তাদের বাড়ি দখল করে রেখেছে। কোন ভাড়া দিচ্ছে না, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল—কিছুই পরিশোধ করছে না। উল্টো তাঁর বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি জানার পর রবিবার দুপুর ২টার দিকে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু নিজেই সংগঠনটিকে উচ্ছেদ করতে যান। তিনি তাঁর কর্মীদের দিয়ে বাড়ির সামনে থেকে সাইনবোর্ড ও ব্যানার নামিয়ে ফেলেন। তখন অফিসের ভেতরে থাকা কয়েক যুবক ভিড়ের মধ্যে সটকে পড়েন।
বাড়ির মালিক আকরামুল ইসলাম বলেন, বাড়িটি ভাড়া নিয়ে দখল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এলাকার বিএনপি নেতাদের কাছে গিয়েও কাজ হয়নি। মিনু ভাই বিষয়টি জানতে পেরে নিজেই এসে উচ্ছেদ করেছেন। অফিসের ভেতরে কিছু জিনিসপত্র আছে। এ জন্য মিনু ভাই তালা দিয়ে চাবি নিয়ে গেছেন। তারা এসে ঝামেলা করলে চাবি মিনু ভাইয়ের কাছে আছে বলে দিতে বলেছেন।’
কথিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সরকার জিয়াউর রহমান জানান, তিনি রাজশাহী নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাহমখদুম থানা বিএনপির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদের জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানের বাড়িও রাজশাহীতে। তিনিও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।
সরকার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বিএনপির সহযোগী সংগঠন আছে প্রায় ২০০। সবাই সব সংগঠন না-ও চিনতে পারেন। কিন্তু আমাদের সংগঠন ভুঁইফোড় নয়। আমাদের বিভিন্ন জায়গায় কমিটি আছে। আমরা বাড়ি দখলেরও চেষ্টা করিনি। বাড়িওয়ালা ভাড়া দিয়েছেন বলেই উঠেছি। তিনি বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছেন। কিন্তু ছাড়তে হলেও তো সময় দরকার। এ জন্য ছাড়া যায়নি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় অফিস দেখছিলাম। পছন্দ হলে চলে যেতাম।’





