রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাঃ আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করা, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করা এবং চলমান জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এবং হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত করার লক্ষ্যে ডাঃ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এর ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৮ মে ডাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ টিএইচও হিসেবে যোগদানের পর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালে এনসিডি কর্নার, অপারেশন থিয়েটার, আইভিশন সেন্টার চালু হয় এবং দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা এক্স-রে মেশিন পুনরায় কার্যকর করা হয়। পাশাপাশি, দীর্ঘ বিরতির পর হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সেবাও চালু হয়।
ওষুধ স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও বরাদ্দকৃত ওষুধ সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে রোগীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন তিনি। ফলে একসময় অবহেলিত এই হাসপাতালটি বর্তমানে রোগীদের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের মত।
তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ক্লিনিক ব্যবসায়ী ও কুচক্রী মহল তাদের স্বার্থে ডাঃ আসাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেও তাঁর উন্নয়নমূলক কার্যক্রম থামাতে ব্যর্থ হলে স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশে একটি ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারে লিপ্ত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জানুয়ারি (শনিবার) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিহাব (১৫) নামে এক কিশোর সড়ক দুর্ঘটনায় সামান্য আহত হয়ে হাসপাতালে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এক্স-রের পরামর্শ দেন। এরপর রোগী ও তার স্বজনরা এক্স-রের জন্য বাইরে যান।
এ সময় হঠাৎ করে রোগীর সঙ্গে আসা কিছু বহিরাগত ও অজ্ঞাতনামা যুবক জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে কর্তব্যরতদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা গালিগালাজ, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একই সঙ্গে ‘ডাক্তার চিকিৎসা দিচ্ছে না’—এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে ভিডিও ধারণ শুরু করে।
ভিডিও ধারণে বাধা দিলে কর্তব্যরত ডিএমএফ আব্দুল আজিজকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং জরুরি বিভাগের বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে কক্ষে আশ্রয় নেন।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ হাসপাতালের দোতলায় নিজ কার্যালয়ে সরকারি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও একটি মহল কিছু অসাধু গণমাধ্যমকর্মী ও অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ডাঃ আসাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে। এসব খবরে দাবি করা হয়, তিনি নাকি রোগীর স্বজনদের মারধর করেছেন—যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম, শাহজালাল, মাহাবুব হাসানসহ অনেকেই বলেন, ডাঃ আসাদ একজন সৎ, জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার ষড়যন্ত্রমূলক এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আশাদুজ্জামান আসাদ এক প্রতিবাদলিপিতে বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বর্তমানে আমরা চরম উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তারা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।”





