নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শীর্ষ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান আশা-এর সার্বিক কার্যক্রম, অগ্রগতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে রাজশাহীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকালে রাজশাহী শহরের সপুরা এলাকার জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে এ সভার আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসএ শাখা ও মিডিয়া সেল) এম রকিবুল হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং আশা-এর ডেপুটি ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) সোহায়েল আহমেদ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আশা-এর রাজশাহী ডিভিশন ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম, আর সঞ্চালনা করেন সিনিয়র অ্যাডিশনাল ডিভিশনাল ম্যানেজার ইউনুচ আলী শেখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডিশনাল ডিভিশনাল ম্যানেজার মুজাহিদ হোসেন, অ্যাডিশনাল ডিভিশনাল ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম, সিডিএম আব্দুল লতিফসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠার চার দশক পেরিয়ে আশা এখন বিশ্বের অন্যতম স্ব-অর্থায়িত ও অনুদানমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান। সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করছে।
তারা জানান, আশা-এর বিশেষত্ব হলো-সম্পূর্ণ স্ব-অর্থায়িত ও ব্যয় সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম শতভাগ ডিজিটালাইজড, এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের ৩,০৭৩টি শাখা অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে।
দেশব্যাপী প্রায় ৭১ লাখ পরিবার আশা-এর সেবা পাচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণ, এমএসএমই ঋণ, কৃষি ঋণ, সঞ্চয়, রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা বৃত্তি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ফিজিওথেরাপি, স্যানিটেশন ও শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
করোনাকালে আশা মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ১ হাজার কোটি টাকার সার্ভিস চার্জ মওকুফ করে। এছাড়া জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, ঋণগ্রহীতার মৃত্যুকালে ঋণ মওকুফ ও দাফন–কাফনে ৫ হাজার টাকা, আর বয়সজনিত কারণে সদস্যদের এককালীন ১৫ হাজার টাকার অবসরভাতা প্রদান করে আসছে।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে আশা-এর রাজশাহী বিভাগে ২২৬টি ব্রাঞ্চের মাধ্যমে ৬ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ঋণগ্রহীতাকে ৪,২৮৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে-যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রারও বেশি। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৪,৪৮০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে বর্তমানে ১,০৬৯টি কেন্দ্রে ৩৫,৬৫৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আশা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি স্যানিটেশন ঋণ পেয়েছেন ৫,০৪৯ জন (মোট ৮.৮৭ কোটি টাকা)। প্রতিষ্ঠানের ৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি এবং ২টি ফিজিওথেরাপি সেন্টার থেকে ১০,৪৬৩ জন রোগী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।
রাজশাহী জেলায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৭৫টি ব্রাঞ্চের মাধ্যমে ১,২৭৭.৮৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়, যা লক্ষ্য ছাড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৫–২৬) ১,৪৯২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে জেলায় ৩৪৫টি কেন্দ্রে ১১,২২৩ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কাছে শীতবস্ত্র হিসেবে ৪০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, “প্রান্তিক মানুষের আর্থিক স্বাধীনতা ও সমাজ উন্নয়নে আশা যে অবদান রাখছে, তা দেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”





