• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

রাজশাহী টিটিসিতে ষড়যন্ত্র ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সাবেক অধ্যক্ষ ইমদাদুলের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: রবিবার, ৬ জুলাই, ২০২৫ ৯:১০

রাজশাহী টিটিসিতে ষড়যন্ত্র ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সাবেক অধ্যক্ষ ইমদাদুলের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) বর্তমান অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার এস.এম. ইমদাদুল হক পুনরায় ওই কেন্দ্রে বদলি হয়ে আসার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রটির পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলছেন।

বর্তমানে তিনি বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে রাজশাহীতে বদলি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়। তারপরও তিনি এখনও রাজশাহীর টিটিসিকে কেন্দ্র করে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ইমদাদুল হক সিন্ডিকেটের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে সহায়তা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের একজন ইনস্ট্রাক্টর, হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট, স্টোর কিপার ও এক কারখানা সহকারী। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা ও ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন। এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

তাদের ভাষ্য, “অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক যদি আবার এখানে বদলি হয়ে আসেন, তবে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের দেখে নেওয়া হবে”—এমন হুমকিতে কর্মীরা আতঙ্ক ও অনিরাপত্তায় রয়েছেন। এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজশাহীর টিটিসির অধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৫৮৪ টাকা অনিয়মিতভাবে ব্যয় করেন। এ অডিট আপত্তি হওয়াতে এসএম ইমদাদুল হক রাজশাহী টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট কয়েজনের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কেন অডিট আপত্তি হল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহী টিটিসিতে চলতি বছরের ৪ মে অনুষ্ঠিত অডিটে দপ্তরের প্রাক্কলন অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা পণ্যগুলোর দরপত্রে দর কম দেখিয়ে মালামাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্যাকেজ নম্বর GR-06 এর ১১০টি আইটেমের মধ্যে ৬৯টি আইটেমের মূল্য বাজারদরের চেয়ে ২ টাকা কম ধরা হয়েছে। বাকি ৪১টি আইটেমের দাম দপ্তরের সঙ্গে হুবহু মিল থাকলেও সন্দেহজনকভাবে সেগুলিও ঠিকাদারের দিক থেকে ‘পূর্ব-জানা দরের’ ইঙ্গিত দেয়। GR-07 নম্বর প্যাকেজের ৩৮টি আইটেমের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রতিটি আইটেমের দাম দাপ্তরিক দরের তুলনায় ২ টাকা করে কম ধরা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, দরদাতাকে সরকারি দপ্তরের বাজারদর আগে থেকেই জানানো হয়েছিল কিনা। কারণ, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর ২০০৮) অনুযায়ী, দপ্তরের প্রাক্কলিত দর টেন্ডার মূল্যায়নের আগে প্রকাশযোগ্য নয়।

“অডিট রিপোর্টে উল্লেখিত ৪২ লাখ টাকার বেশি অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) বর্তমান অধ্যক্ষ এসএম ইমদাদুল হকের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।পরবর্তীতে তাঁর ওয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হক বলেন, আমি যোগদানের পর থেকেই একটি চক্র আমার প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা দিয়ে যাচ্ছে। তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টিটিসিতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের কর্মকাণ্ডে টিটিসির পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে এবং আমি কার্যত নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছি।” তিনি আরও বলেন বিষয়গুলি যথাযথ কতৃপক্ষকে জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮