নিজস্ব প্রতিবেদক: দোকান পুড়ানোর মামলায় জামিন নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসিয়েছে সম্রাজ্ঞী শ্যামলী (৪৫)।
মাদক বিক্রির ভিডিও ধারন করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের গালিগালাজসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছেন তিনি। এঘটনায় চন্দ্রিমা থানায় শ্যামলী ও তার মেয়ে খালেদার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজশাহীর আলো পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ইফতেখার আলম বিশাল।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শিরোইল কলোনি রেলওয়ে বস্তির পুকুর পারে এঘটনা ঘটে। হত্যা, বাড়ি পুড়ানো ও মাদকসহ অন্তত ডজনখানেক মামলার আসামি শ্যামলী। গত ১৫ জানুয়ারি শ্যামলীর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে নিশা বেগম নামের এক চাদোকানীকে মারধরসহ তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেয় শ্যামলী। এঘটনায় শ্যামলীর বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় মামলা হলেও ৭ দিনের মাথায় আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসেন তিনি। তারপরও থেমে নেয় তার মাদকের ব্যবসা।
স্থানীয়রা বলছেন, জামিনে এসে আগের তুলনায় দীগুন মাদকের ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে তার । এছাড়া উগ্রতার পাশাপাশি থাকছে খিটখিটে মেজাজে। এমন দাপটে এবং হিংস্র একজন নারী মাদক ব্যাবসায়ী দেখে হতভম্ভ স্থানীয়রা। ইচ্ছাকৃতভাবে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে রাখছে এলাকায়। কারণ পারবর্তীতে তার বিরুদ্ধে কেও আওয়াজ তুলতে না পারে। আর এসকল ক্ষমতা দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনিকেই দুষলেন স্থানীয়রা। শক্ত হাতে দমন করলে আজ এত সাহস পেতনা বলেও জানান তারা।
একবার নয়, দুইবার নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছেন বহুবার। অধিকাংশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায়।
নগরীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের প্রধান তিনি। যাকে সবাই চেনে ‘মাদক সম্রাজ্ঞী শ্যামলী’ নামে। অর্ধেক জীবন পার হয়েছে মাদকের ব্যবসা করেই। পরিবারে শুধু তিনি একা নন, স্বামী, শাশুড়ি, জামাই, সন্তানসহ সবাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। জেল খাটেন। আবার ছাড়াও পান। কারামুক্ত হয়ে বেরিয়ে এসে আবার শুরু করেন মাদক ব্যবসা।
সবশেষ ১৬ জুলাই সন্ধ্যার দিকে শ্যামলীকে গ্রেফতার করে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ। তার কাছে পাওয়া যায় হেরোইন। তিনি রেলওয়ে বস্তি এলাকার খায়রুলের স্ত্রী। একসময় পরের বাসায় ঝিয়ের কাজ করতেন মাদক সম্রাজ্ঞী শ্যামলী। এখন রেলের জমিতে টিনের ঘর নির্মাণ করে করছেন মাদকের রমরমা ব্যাবসা।
এ ব্যাপারে চন্দ্রিমা থানার এসআই আইনুল ইসলাম বলেন, দোকান পুড়ানোর মামলায় বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসেছেন শ্যামলী। মুন্সির কাছে তার রিকল জমা দিয়ে গেছেন।
এদিকে মাদকের সাথে জড়িত কাওকে ছাড় দিবেননা বলে জানিয়েছেন ওসি মাহবুব আলম। তিনি বলেন, মাদক পেলেই তাকে আবার আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সনি বাংলা ডট কম/ইআবি





