• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

বন্ধের পর আবার শুরু হয়েছে নগরীর বিশালাকার জলাশয়! 

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট, ২০২৩ ৭:০৭

বন্ধের পর আবার শুরু হয়েছে নগরীর বিশালাকার জলাশয়! 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী নগরীতে প্রকাশ্যে চলছে জলাশয় ভরাটের কাজ। খুব জোরেসোরে ভরাট কার্যক্রম চল্লেও মুখে কুলুপ এঁটেছেন সংশ্লিষ্টরা! এর আগে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ভরাট কাজ বন্ধ রাখেন জলাশয় মালিক সাচ্চু।

এছাড়া জলাশয়ের পাশ্ববর্তী পাবনাপাড়া বস্তিবাসির প্রতিরোধের মুখে বন্ধ হয় ভরাট কার্যক্রম। কিন্তু দেড়মাস পরে আবারো শুরু হয়েছে পরিবেশ বিনষ্টকারী প্রক্রিয়ার সেই ধারাবাহিকতা।

ইতোমধ্যেই প্রায় ১৫ বিঘা ভরাট কাজ সম্পন্ন করেছে ভরাটকারি সাচ্চু। পৈত্রিকসূত্রে জলাশয়ের ঐ ১৫ বিঘার মালিকও তিনি। প্রায় ১৮৬ বিঘার বিশালাকার আয়তনের জলাশয় নগরীজুড়ে আর তেমন একটা নেই বলে জানান রোডপাড়া তারা মসজিদের সভাপতি সাদেক আলী, হোটেল ব্যবসায়ী আকবর সহ অনেকেই। জলাশয়টির একাংশ ভরাট হলেও পাবনাপাড়া, রায়পাড়াসহ টেক্সটাইল মিলের আশেপাশে বসবাসকারিরা বর্ষা মৌসুমে পড়বেন চরম বিপাকে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।

পানি নিষ্কাশনের অভাবে জলাবদ্ধতা প্রকোট আকার ধারণ করবে। ভোগান্তি বাড়বে বসবাসকারিদের। রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা রনি সামসুল ও আলম বলেন, সেই ছোট থেকে কিশোরকাল পর্যন্ত আমরা বন্ধুরা মিলে এই জলাশয়ে গোসল করতাম, নৌকাতে করে মাছও ধরতাম। জলাশয়ে আসা বড় বড় বকপাখি ছাড়াও আসতো নানা প্রজাতির পাখি। এখনো আসে। এইতো গত শনিবার (৬ আগস্ট) জলাশয়ের পূর্বদিকের পানিতে প্রায় পাঁচ ছয়টা বড় বড় সাদা বকপাখি মাছ ধরার জন্য বসেছিল। এখনো নৌকাতে করে অনেকেই মাছ ধরে। এই জলাশয়ের পানিতে ২৩ কেজি ওজনের বোয়াল মাছও ধরা পড়ার ইতিহাস আছে। শহরের মধ্যে এমন বিশালাকার জলাশয়ের দৃশ্য যে কাউকে আকৃষ্ট করে প্রকৃতির ভালবাসার প্রতি। কিন্তু, জলাশয়টি ভরাটের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছিল রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানাধীন ১৭ নং ওয়ার্ডের বড়বনগ্রাম মৌজা অন্তর্গত রায়পাড়া এলাকার কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালের পেছনের ১৮৬ বিঘা আয়তনের বিশালাকার জলাশয়টির মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবার চলমান পক্রিয়ার কাহিনী। জলাশয়টি ভরাটের ফলে নানামূখি সমস্যা আর জলাবদ্ধতার চরম ভোগান্তির পাশাপাশি ঝুঁকি বাড়বে আগুন নেভানোর জন্য পানির অনুপস্থিতির বলে মন্তব্য সচেতনদের।

স্থানীয়দের বাঁধারমুখে ভরাট কার্যক্রম একবার বন্ধ হলেও আবারো শুরু হয়েছে পরিবেশগত ভারসাম্য ধ্বংসের লীলাখেলা বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি আর স্থানীয় প্রশাসনের ভয়ে পুণরায় কেউ বাঁধা দেবার সাহস পাচ্ছেনা বলেও মন্তব্য তাদের। ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহাদত আলী শাহুর নিশ্চুপ ভূমিকা নিয়েও জনেমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন। এক পশ্নের জবাবে কাউন্সিলর শাহু বলেন, ‘আমিও তাই শুনলাম। বিশালাকার জলাশয়টি নাকি আবারো ভরাট করা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখবে।’ কিন্তু শোনাযায়, দেড়মাস আগে পাবনাপাড়া ভূমিহীন বস্তিবাসিদের একত্রিত করে জলাশয় ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ দেন কাউন্সিলর শাহুর নিজেই। সে মোতাবেক শাহুর বাড়ির প্রহরী ও পাবনাপাড়া ভূমিহীন সংগঠণের নেতা মতিনের নেতৃত্বে দেড়মাস আগে (১৩.৬.২৩) বস্তিবাসির একাংশ একত্রিত হয়ে আন্দোলন করে জলাশয় ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ঐসময় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া দলনেতা মতিন প্রতিবেদককে বলেছিলেন, এই জলাশয়টি ভরাট করে দিলে হাজার হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়বেন। এছাড়াও গৃহস্থালি কাজসহ প্রাত্যহিক নানা প্রয়োজনের এই জলাশয়টি আমাদের এক ধরণের আশীর্বাদ স্বরূপ। তাই আমরা ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু দেড়মাস পর কি এমন হলো যে, সেই প্রতিবাদকারীরা এখন নিশ্চুপ হয়ে বাড়ির উঠেন থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে জলাশয়টির মৃত্যুযাত্রা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা আর নিজেদের আগত ভোগান্তি হ্রাসে কেনো পূর্বের ন্যায় আবারো বাঁধা দেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে কেই কোন উত্তর দিচ্ছে না। তবে, কয়েকজন বলেন, শুনেছি কাগজে কলমে নাকি ভিটে উল্লেখ্য আছে। নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন প্রতিবেদকে জানান, শুনেছি ভরাটকারি সাচ্চু নাকি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করেছেন বড় মাপের টাকার অংক দিয়ে। তাই এবার তার ভরাট কাজে স্থানীয়ভাবে কোন প্রকার বাঁধাবিঘœ আসেনি। দেদাড়ছে চালিয়ে যাচ্ছে ভরাটের কর্মযজ্ঞ।

এদিকে, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০-এ বলা হয়েছে, নদী, খাল-বিল, হাওর, দিঘি, ঝর্ণা, বন্যাপ্রবাহ এলাকা, বৃষ্টির পানি ধারণ করে এমন সব এলাকা প্রাকৃতিক জলাধার, জলাশয় বা জলাভ‚মি হিসেবে পরিগণিত হবে। এমনকি ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরকেও প্রাকৃতিক জলাধারের সংজ্ঞাভুক্ত করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, জলাধার কোনোভাবেই ভরাট করা যাবে না।
নগরীর ষষ্টিতলা নিবাসী মৃত মাইনুলের ছেলে ভরাটকারি সাচ্চু াওক পশ্নের জবাবে বলেন, জলাশয়টি তো কাগজে কলমে ভিটা উল্লেখ্য আছে। আমার জায়গা আমি ভরাট করবো নাকি খনন করবো সেটি আমার বিষয়! অন্যদের কি ? এছাড়াও আমি তো পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছি। ভরাটকারি সাচ্চুর কথার প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলা শাখা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক কবির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভরাটের বিষয়ে আমরা অবগত না। এছাড়া মৌখিক নির্দেশনা দাপ্তরিক কোন ফরমেট হতে পারেনা। গত ১৩-৬-২৩ তারিখে পাবনাপাড়া ভূমিহীন বস্তিবাসি কর্তৃক জলাশয় ভরাট বন্ধ হবার দেড়মাস পরে আবারো কিভাবে কাজ শুরু করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাহমখদুম থানাতে আমি আমার বৈধ কাগজপত্র দেখিয়েছি। থানা কর্তৃপক্ষ আমাকে অনুমতি দিয়েছে। তাই আবারো ভরাট কাজ শুরু করেছি। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষের কি অনুমতি দেবার সেই এখতিয়ার আছে ? জানতে চাইলে তিনি আবারো বলেন, রাস্তাঘাট আগের চাইতে এখন অনেক উঁচু হয়ে গেছে। তাই বৃষ্টির পানি এখানে কিছুদিন জমে থাকে। এটাতো কাগজে কলমে ভিটা উল্লেখ আছে, বলে ফোন কেটে দেন। কিন্তু শাহমখদুম থানার অফিসার্স ইনচার্জ বলেন, থানা কখনো এই ধরনের অনুমতি দেবার এখতিয়ার রাখেনা। এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাভ‚মি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কার্বন সংরক্ষণ করে। রক্ষা করে ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর। রাজশাহীর পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, বরেন্দ্র অঞ্চল হওয়ায় এমনিতেও রাজশাহীতে পানির স্তর নিচের দিকে থাকে। এর মধ্যে ভ‚মির উপরিভাগের জলাশয়গুলো যেভাবে ভরাট হচ্ছে, তা আশঙ্কাজনক। রাজশাহীতে শীতের সময় তীব্র শীত আর গরমের সময় তীব্র গরমের যে আবহাওয়া বিরাজ করে, তা পরিমাণমতো জলাভ‚মি না থাকার কারণে। এমনভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই নগরী বসবাসের উপযোগিতা হারাবে। এই জলাশয়টি ভরাট হলে এর আশেপাশের এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্ট হবে চরমভাবে বলে মন্তব্য সচেতন ব্যক্তিদের।

সনি বাংলা ডট কম/ই আবি

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮