স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ সাত বছর ধরে ঘরবন্দী জীবন কাটানোর পর অবশেষে নতুন করে চলার স্বপ্ন দেখছেন ৮৫ বছর বয়সী অসহায় বৃদ্ধা মমেনা বেগম। একটি হুইলচেয়ারই যেন তার জীবনে এনে দিয়েছে নতুন আশার আলো।
রাজশাহীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রামচন্দ্রপুর খরবোনা এলাকার বাসিন্দা মমেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। স্বামী-সন্তানহীন এই বৃদ্ধা বয়সজনিত কারণে চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। তার ওপর মাজায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় গত সাত বছর ধরে তিনি ঘরের বাইরে বের হতে পারেননি। একমাত্র বোন ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোভাবে তার দিন চলছিল।
এই মানবেতর জীবনের খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে পাশে দাঁড়ায় ‘সার্বজনীন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির উদ্যোগে এবং প্রবাসে থাকা এক দাতার আর্থিক সহায়তায় মমেনা বেগমকে একটি নতুন হুইলচেয়ার ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
এ মানবিক উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ‘জুলু ভাই’ মমেনা বেগমের আমৃত্যু প্রতি মাসের বাজার খরচ বহনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি এলাকাবাসীও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো বিপদে তারা এই বৃদ্ধার পাশে থাকবেন।
সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম রবি, সহ-সভাপতি মাসুদুল মৃধা মোমিন, অ্যাডমিন ফাহিম, সদস্য বিপ্লবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সার্বজনীন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মোহন আলী বলেন, “অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য। মমেনা বেগমের মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সমাজের সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসে, তাহলে এমন অনেক মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে।”
তিনি আরও জানান, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও হুইলচেয়ার, নলকূপ মেরামত ও নতুন নলকূপ স্থাপনের জন্য তাদের কাছে আবেদন আসছে। ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মমেনা বেগমের চোখেমুখে এখন স্বস্তির ছাপ। ছোট্ট এই সহায়তাই তার জীবনে এনে দিয়েছে বড় পরিবর্তন—যেখানে মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে, সেখানেই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।





