• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

রাজশাহীতে পূর্ণমন্ত্রী দাবিতে জোরালো আলোচনা, প্রত্যাশার কেন্দ্রে মিজানুর রহমান মিনু

প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:৪৭

রাজশাহীতে পূর্ণমন্ত্রী দাবিতে জোরালো আলোচনা, প্রত্যাশার কেন্দ্রে মিজানুর রহমান মিনু

ইফতেখার আলম বিশাল: গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো ইতিহাসের বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। স্বাধীনতার পর এমন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আর কখনও দেখেনি বাঙালি জাতি—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন মানেই যেখানে হামলা, খুন, রাহাজানি ও সংঘর্ষের শঙ্কা থাকে, সেখানে এবারের নির্বাচনে সংঘর্ষহীনভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নির্বাচনের পর শুরু হয়েছে মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলোচনা। কে কে এবার মন্ত্রীপরিষদে স্থান পাচ্ছেন—তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সেই আলোচনায় বারবার উঠে আসছে রাজশাহীর নাম। প্রতিমন্ত্রী পেলেও দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণমন্ত্রী পাননি রাজশাহীবাসী। ফলে একজন পূর্ণমন্ত্রী পাওয়ার প্রত্যাশা বহুদিনের। অতীতে সেই আশা পূরণ না হলেও এবার নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন রাজশাহীর মানুষ।

রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা, সরকার গঠনের পর এবার রাজশাহী থেকে একজন পূর্ণমন্ত্রী দেওয়া হবে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। দাবি উঠেছে, রাজশাহী থেকে একজনকে মন্ত্রীপরিষদে স্থান দিতে হবে। আর বিএনপি থেকে নির্বাচিত চারজন এমপির মধ্যে জোরালোভাবে যে নামটি আলোচনায় রয়েছে, তিনি হলেন উত্তরাঞ্চলের রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও উন্নয়নের কারিগর মিজানুর রহমান মিনু। তিনি এর আগে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তাঁকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান রাজশাহীবাসী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি পেয়েছে ২১২টি আসন, যা বিশ্লেষকদের মতে বড় অর্জন। বিশেষ করে রাজশাহীর ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। নির্বাচিত চার এমপির মধ্যে তিনজন উপজেলা সদর এলাকার এবং তাঁরা নতুন মুখ। একমাত্র রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি মিজানুর রহমান মিনু রয়েছেন পুরোনোদের তালিকায়।

মিজানুর রহমান মিনু টানা তিনবার রাজশাহী সিটি করপোরেশন-এর মেয়র এবং একবার রাজশাহী-২ আসনের এমপি ছিলেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে মন্ত্রীপরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হলে শুধু রাজশাহী নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষক সমাজ, ব্যবসায়ী মহলসহ সাধারণ মানুষ।

মিনুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদল দিয়ে। ১৯৭৮ সালে তিনি বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি এ অঞ্চলে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর নেতৃত্বে ছাত্রদল ছিল সুসংগঠিত। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ছাত্রদল থেকে যুবদলে যোগ দেওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক জীবন নতুন মাত্রা পায়। দক্ষতার ভিত্তিতে তাঁকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৯৮৭ সালে তিনি বৃহত্তর রাজশাহী জেলা যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত তাঁর দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন। ১৯৯৪ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান এবং ১৯৯৬ সালে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই বছরে তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পান।

২০০১ সালে তিনি রাজশাহী-২ সদর আসনে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন এবং একই বছর তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হন। পরে তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ জানুয়ারিতে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, মিজানুর রহমান মিনুর মতো বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা উত্তরাঞ্চলে বিরল। তাঁকে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী করা হলে এ খাত রোল মডেল হয়ে উঠবে। অতীতে বঞ্চিত হলেও এবার আর বঞ্চিত হতে চান না তাঁরা।

রাজশাহী মহানগর এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম বলেন, মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে রাজশাহী একসময় শিক্ষা নগরীর মর্যাদা পেয়েছিল। শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁকে মন্ত্রী করা প্রয়োজন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. আব্দুল আলিম বলেন, পিছিয়ে পড়া রাজশাহীকে এগিয়ে নিতে একজন অভিজ্ঞ মন্ত্রীর বিকল্প নেই।

রাজশাহী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশনের (রেডা) সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলু বলেন, ডেভেলপার খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। একজন মন্ত্রী পেলে এ খাতসহ অন্যান্য খাতেও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, সুলতানগঞ্জ নদীবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এ জন্য প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সহায়তা।

নির্বাচনের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নবনির্বাচিত এমপি মিজানুর রহমান মিনুকে মন্ত্রীপরিষদে দেখতে চাই’ স্লোগান ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ফেসবুক পেজে হাজারো মন্তব্যে তাঁর নাম উঠে আসছে। বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেও চলছে ব্যাপক আলোচনা।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮