রাজশাহী বিভাগে ১১ আসনে বিএনপির পরাজয়ের কার
অহংকার, তৃণমূল অবহেলা ও বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাবেই ভরাডুবি বিশ্লেষকদের মত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১১টিতে বিএনপি–জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা পরাজয়ের মুখ দেখেছেন। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেই বিএনপির সম্পূর্ণ ভরাডুবি এবং পাবনার অর্ধেকের বেশি আসনে পরাজয় দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীদের অহংকার, তৃণমূল নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলা এবং মনোনয়ন বাছাইয়ে বিতর্ক—এই তিন কারণেই এমন ফল এসেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সম্পূর্ণ ভরাডুবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে শাজাহান মিঞা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে হারুনুর রশীদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে আমিনুল ইসলাম
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীরা নতুন মুখ প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় মাঠে উৎসাহ কমে যায় এবং প্রার্থীদের জনপ্রিয়তাও হ্রাস পায়।
রাজশাহীতে ‘অহংকার’ ও তৃণমূল অবহেলার অভিযোগ
রাজশাহী-১ আসনে প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল নেতাকর্মীদের যথাযথ সম্পৃক্ত করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়।
রাজশাহী-৪ আসনে ডিএমডি জিয়াউর রহমান মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই বিতর্কিত আচরণের কারণে সমালোচনায় পড়েন। দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি তার জয়ের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জয়পুরহাট ও পাবনায় বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব
জয়পুরহাট-১, পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে দলের ভেতরের বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জয়পুরহাট-১ আসনে সাবেকুন নাহার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ৯ হাজার ৮৮৩ ভোটে পরাজিত হন।
পাবনার কয়েকটি আসনেও একই চিত্র দেখা যায়—দলের একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় মূল প্রার্থীরা ভোটের সমীকরণে পিছিয়ে পড়েন।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পরাজয়
নওগাঁ-২ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। যদিও কয়েকটি আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান ছিল, তবুও প্রার্থীদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং সাংগঠনিক মনোবলহীনতা বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তদন্তের আশ্বাস, সামগ্রিকভাবে ‘সন্তুষ্ট’ বিএনপি
বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন,
“পরাজয়ের কারণগুলো তদন্ত করা হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ভুল না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। তবে সামগ্রিকভাবে আমরা খুশি। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।”
রাজশাহী বিভাগের নির্বাচনী ফলাফল দেখিয়েছে—শক্তিশালী বিরোধী শক্তির উপস্থিতি যেমন প্রভাব ফেলেছে, তেমনি প্রার্থীদের ব্যক্তিগত আচরণ, তৃণমূলের অংশগ্রহণের অভাব এবং মনোনয়ন বাছাইয়ের ত্রুটিও বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। সামনে সাংগঠনিক পুনর্মূল্যায়ন ও নেতৃত্বের সমন্বয়ই বিএনপির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





