• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

আ.লীগ নেতাদের প্রভাবের খেসারত দিচ্ছেন শিক্ষকরা বিধিবর্হিভুত উপজেলা থেকে বদলী নিয়ে নগরীতে চাকরি করছেন শতাধিক শিক্ষক

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১:৩৪

আ.লীগ নেতাদের প্রভাবের খেসারত দিচ্ছেন শিক্ষকরা বিধিবর্হিভুত উপজেলা থেকে বদলী নিয়ে নগরীতে চাকরি করছেন শতাধিক শিক্ষক

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিধিবহির্ভতভাবে বদলী নিয়ে চাকরি করছেন প্রধান ও সহকারী শিক্ষকরা। বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে উপজেলা থেকে বদলী নিয়ে প্রায় শতাধিক শিক্ষক রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চাকরি করছেন। আর মহানগর থেকে যারা নতুন নিয়োগ পাচ্ছেন তারা পদ খালি না থাকায় যোগদান করতে পারছেন না। একই সাথে নগরীর স্কুলগুলোতে বছরের পর বছর সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করেও মিলছে না প্রমোশন। নগরীর মধ্যে নিয়োগ পাওয়ার পরও চাকরি করতে হচ্ছে গ্রামের প্রত্যান্ত অঞ্চলে। অথচ উপজেলা থেকে প্রমোশন ও বদলী নিয়ে এসে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকরা নগরীতে চাকরি করছেন। আর এসব বিধিবর্হিভুত বদলী বাণিজ্য করে কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগের এমপি, মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতারা।
জানা গেছে, রাজশাহী নগরীতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬০টি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুধু ২০১৫ ও ২০১৬ সালে উপজেলা ও বাইরের জেলা থেকে গণহারে বদলী নিয়ে প্রধান ও সহকারী প্রায় ১শ’ জন শিক্ষক মহানগরীতে এসেছেন। ৬০টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের মধ্যে ১৬টি বাইরের শিক্ষকদের দখলে। আর বাইরে থেকে আসা ৮২জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন নগরীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। এসব শিক্ষকরা এমপি, মন্ত্রী, মেয়রের ডিও লেটার নিয়ে সরাসরি উপজেলা থেকে প্রমোশন ও বদলী নিয়ে নগরীতে এসেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিুজর রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রভাব খাটিয়ে মূলত এসব শিক্ষকদের বিধিবর্হিভুতভাবে রাজশাহী নগরীর মধ্যে বদলী দিয়েছেন। একেকটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ সবাই বাইরে থেকে আসা শিক্ষক চাকরি করছেন। আর এক একজন শিক্ষককে বদলী করতে নেয়া হয়েছে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা। এতে বর্তমান নগরীতে যারা নিয়োগ পাচ্ছেন তারা পদ ফাঁকা না থাকায় গ্রামের প্রত্যান্ত অঞ্চলে চাকরি করছেন। এমন কি গত প্রায় ১০ বছর নগরীর কোনো স্কুলে সহকারী শিক্ষকদের প্রমোশন দেয়া হয়নি। কারণ পদ ফাঁকা না থাকায় নগরীর স্কুলগুলো শিক্ষকরা প্রমোশন হয়নি। একই সাথে মহানগরীর মধ্যে চাকরি পাওয়া ৪৫জন শিক্ষক বাইরের উপজেলা পর্যায়ে প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলে চাকরি করছেন। পদ ফাঁকা না থাকায় তারা মহানগরীর মধ্যে ঢুকতে পারছেন না। এতে একদিকে নগরীর সহকারী শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে খর্ব করা হয়েছে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের অধিকার।
জানা গেছে, বিধি মোতাবেক তিনভাবে শিক্ষক বদলী ও প্রমোশন দেয়া হয়। এরমধ্যে বদলী ও নিয়োগ ৩৫%। প্রোমোশন ৬৫%। এ ক্ষেত্রে উপজেলার কোনো শিক্ষক প্রমোশন পেলে তাকে উপজেলাতেই থাকতে হবে। প্রমোশন নিয়ে মহানগরীর মধ্যে ঢুকতে বা বদলী নিতে পারবেন না। আর নতুন শিক্ষকদের ক্ষেত্রে যে উপজেলায় নিয়োগ হবে সেই উপজেলাতেই তাকে যোগদান করতে হবে। তিনি উপজেলায় নিয়োগ পেয়ে নগরীর কোনো স্কুলে যোগদান করতে পারবেন না। তবে কোনো শিক্ষকের স্বামী নগরীতে বসবাস করলে তার ঠিকানায় বদলী নিতে পারবেন। কিন্তু গত ২০১৫-১৬ সালে যে গণহারে বদলী হয়েছে তাদের বেশিরভাগেরই স্বামীর ঠিকানা নগরীতে নেই। মোটা অংকের টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের ডি লেটার ও সুপারিশে বদলী হয়ে নগরীর স্কুলে যোগদান করেছেন। যা বদলী বিধিবর্হিভুত।
নিম্নে বিভিন্ন উপজেলা ও পাশবর্তি জেলা থেকে বদলী নিয়ে এসে নগরীর স্কুলে চাকরি করা শিক্ষকদের তালিকা তুলে ধরা হলো। নগরীর খাদেমুল ইসলাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাইরে থেকে বদলী নিয়ে এসে চাকরি করছেন প্রধান শিক্ষক জামিলা তারিন। খরবোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক আনোয়ারা খাতুন, আয়শা আক্তার, মাস্তুরি ইয়াসলা। ঘোড়ামারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক আম্বিয়া খাতুন (রীতা)। সিলভার জুবেরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে রয়েছেন আম্বিয়া ফেরদৌস খানম, সহকারী শিক্ষক রয়েছেন দুলারী খাতুন। রেলওয়ে স্টেশন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে রয়েছেন  সিদরাতুল মুনতাহা। কাদিরগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক মাহমুদা খাতুন, ছালমা পারভিন ও ফাতেমাতুজ জোহরা। হেতেমখা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক বিলকিস বানু। হোসনিগঞ্জ বালক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক রুখশানা পারভিন পপি ও মহাসিনা বেগম। জনকল্যান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক রয়েছেন জয়শ্রী রায়। দরগাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক রয়েছেন শিউলি আক্তার। কেশবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন আর্জিনা আক্তার। জুলফিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক শারমিন সুলতানা। লক্ষীপুর ভাটাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক সাজিনা আফরিন আদুরী। পাঠানপাড়া কামরুজ্জামান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক রয়েছেন মাস্তুরা পারভিন। মুহাম্মাদপুর টিকাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক নুরুল নাহার। হেলেবাদ-২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ফেরদৌসী পারভিন। সাবিত্রী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন সানজিদা চৌধুরি ও সহকারী শিক্ষক জেসমিন নাহার। তালাইমারি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ রয়েছেন চারজন। এলা হলেন, প্রধান শিক্ষক  জামেনা খাতুন, সহকারী শিক্ষক ছাওদা খাতুন, হোসনে আরা ও শামীমা আক্তার। মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক হেলেনা পারভিন। কাশিয়াডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক নার্গিস সুলতানা ও জেসমিন খাতুন। নগরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক জান্নাতুননেছা ও নুরে নেসা জান্নাতুল মাওয়া।
রায়পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক সারমিন সুলতানা। মোল্লাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক মুর্শিদা নাহার। উপশহর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন সহকারী শিক্ষকরা হলেন, নাসরিন পারভিন, ফারহানা খাতুন ও  কামরুন নাহার শিরিন। সপুরা অন্নদা সুন্দরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক উম্মে সালেহা খাতুন। আটকোষী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক রয়েছেন ৬জন, এরা হলেন,  মনিরা খাতুন, নিগার সুলতানা, মুরতুজা বেগম, লায়লা সাবিকুন নাহার মাহমুদা সিদ্দিকা ও মুক্তা বানু। নওদাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক আকলেমা খাতুন। ছোটবনগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানা ও শাহনাজ বেগম। শিরোইল কলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ রয়েছেন ৬জন। এরা হলেন, প্রধান শিক্ষক এসএম আজাদ শফিকুর রহমান, সহকারী শিক্ষক ফাহমিদা আফরোজ, শর্মিলা সরকার, লুবনা খাতুন মারজাহা হক লিপি ও আরশেদা জাহান।
নামোভদ্রা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা, সহকারী শিক্ষক শারিকা সুলতানা। ভদ্রা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৭জনই বাইরের। এলা হলেন, প্রধান শিক্ষক সুলতানা সাবানা, সহকারী শিক্ষক নিপা রানী দত্ত, শাহিন আক্তার রাজিয়া, আম্বিয়া আল আরাফ, মাখদুমা আক্তার বানু, সামিনা পারভিন ও সুরাইয়া পারভিন। রানীনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক হেলেনা আক্তার পারভিন। কাজলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক উমাইয়া নাসরিন যুথি ডাঁশমারি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সকহারী শিক্ষক রুমানা সুলতানা। মির্জাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক নিলুফার ইয়াসমিন। বুধপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনজন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। এরা হলেন রাশিদা খাতুন, শাহিনা সুলতানা টপি ও মাহমুদা খাতুন।
বড়বনগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক সাবিহা সুলতানা চৌধুরি। পশ্চিম বুধপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক শিমুলী আক্তার লাইজু। ঠাকুরমারা কলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক সেলিনা পারভিন ও অজিফা জান্নাত। ধরমপুর সমশের আলী মোল্লা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক রাফিয়া খাতুন। কারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক সিরাজুন নাজনীন।
ঘোরামারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, এ বিষয়টি নিয়ে তৎকালিন সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, সাবেক রাসিক মেয়র এইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে বারবার বলেছি। কিন্তু তারা এতোটুকু আমলে নেননি। আওয়ামী লীগ সরকার রাজশাহী নগরীর শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে দেয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদেরও মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। তিনি বলেন, বাইরের উপজেলা থেকে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের চেয়ে নগরীতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা অভিজ্ঞ। কিন্তু নগরীতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা পদ ফাঁকা না থাকার কারণে বাইরে চাকরি করছেন। এটা অধিকার ক্ষুন্ন করা ছাড়া আর কিছুই না। তিনি বলেন, পরে রিট করার প্রেক্ষিতে আর কোনো শিক্ষক নগরীতে ঢুকতে পারেননি।

এব্যাপারে বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা অফিসার মোকলেসুর রহমান জানান, আমি সেই সময় ছিলাম না। তবে উপজেলা থেকে নগরীতে শিক্ষক বদলীর কোনো বিধি বিধান নেই। কেউ উপজেলা থেকে বদলী নিয়ে নগরীর মধ্যে ঢুকতে পারবে না। এতো বিপুল সংখক শিক্ষক মাত্র দুই বছরে কিভাবে উপজেলা থেকে বদলী নিয়ে নগরীতে এলো এটা আমি জানি না।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮