নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীজুড়ে কথিত ‘মহা উন্নয়ন’ আজ নগরবাসীর জন্য ‘মহা দুর্ভোগে’ পরিণত হয়েছে। কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হওয়া রাস্তা দু’বছরের মাথায় হয়ে পড়েছে বেহাল। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পানি জমে তৈরি হয়েছে ছোট ছোট পুকুর, আর খানাখন্দে চলছে দুর্ঘটনার মিছিল।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো-রাস্তা তৈরিতে ব্যবহৃত টাকার পরিমাণ ছিল কল্পনাতীত। কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৩ কোটি টাকা, অথচ রাস্তা টিকলো না দুই বছর!
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) সূত্রে জানা গেছে, পুরো শহরে মূল সড়ক রয়েছে ৩৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩২ কিলোমিটার সড়ক এখন চলাচলের অযোগ্য। ভাঙাচোরা রাস্তাগুলো বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় ছোট-বড় গর্ত, আর দুর্ভোগে পড়ে হাজারো পথচারী।
শুধু নগরবাসী নয়, বিপাকে পড়েছে নিজে রাসিক কর্তৃপক্ষও। অর্থ সংকট এতটাই প্রকট যে পুরো শহরের রাস্তা মেরামতের জন্য বরাদ্দ মিলেছে মাত্র ৫০ লাখ টাকা!
বিশেষ নজরে এসেছে ভদ্রা থেকে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। কাজ শেষ হয়েছে ২০২২ সালে, আর ২০২৩ সালের শুরুতেই শুরু হয় কার্পেটিং উঠে যাওয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাসিকের একটি সুত্র বলছে, এই রাস্তার ঠিকাদার ছিলেন মেয়র লিটনের ঘনিষ্ঠ। কাজ শেষ না হতেই বিল তুলে ফেলেছেন। এখন রাস্তায় পানি জমে মাছ চাষ করা যাবে!”
তারা জানান, কাজটি পেয়েছিল ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডিং কোম্পানি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান, যার মালিক বজলুর রহমান ছিলেন সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠজন।
সড়ক নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অথচ অভিজ্ঞ ঠিকাদারদের মতে, ড্রেনসহ উন্নত রাস্তা নির্মাণে এই খরচ সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৯ কোটি টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়।
তাদের ভাষায়, যদি প্রকৃত খরচ অনুযায়ী কাজ হতো, এই রাস্তা অনায়াসে ৫ বছর টিকে যেত। কিন্তু এখানে অর্ধেক টাকায় রাস্তা বানানো হয়েছে, বাকি টাকায় হয়েছে ভাগবাটোয়ারা।”
শুধু একটি নয়, রাজশাহীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাই এখন চলাচলের অযোগ্য: যেমন
বারোরাস্তা মোড়, কাঁঠালবাড়ী থেকে কাশিয়াডাঙ্গা, কোর্ট স্টেশন থেকে লিলি হল,
সিপাইপাড়া থেকে শ্রীরামপুর মোড়, সাহেব বাজার থেকে বিন্দুর মোড়, তেরখাদিয়া স্টেডিয়াম থেকে সিটি হাট, বিমান চত্বর থেকে বিহাস। এসব রাস্তা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজ হলেও একে একে ভেঙে পড়ছে সব।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন বলেন,
চলতি মাসের শেষ নাগাদ সংস্কার কাজ শুরু হবে। তবে মাত্র ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। টাকার অভাবে আমরা বড় পরিসরে কাজ করতে পারছি না।”





