ইফতেখার আলম বিশাল: রাজশাহীতে মেয়ের বাড়ি দখল করে চুরাই বিদ্যুৎ ব্যবহার ও নেসকো কর্মকর্তার স্বজনপ্রীতির অভিযোগের ঘটনায় অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। সনি বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর নেসকো কর্তৃপক্ষ দ্রুত নড়েচড়ে বসে এবং ঘটনা অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেনকে। তাকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশিদ বলেন, সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছি এবং অফিসিয়ালভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন বলেন, আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে কমিটিতে আমি আছি। যদিও এখনও কাগজপত্র হাতে পাইনি, তবে দ্রুত তদন্ত শুরু করে যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করব। কেউ যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে মিটার সরায় বা অনুমতি ছাড়া বসায়, তবে বিদ্যুৎ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উঠে আসে, রাজশাহী নগরীর নতুন বিলশিমলা এলাকার হোল্ডিং নং ০২১৯/০১-এর তিনতলা ভবনের মালিকানা দাবি করেন মৌসুমী পারভীন। তার দাবি, ২০১৯ সালে জমি কিনে তিনি ভবন নির্মাণ করেন। কিন্তু ২০২৩ সালে তার বাবা মো. নাসিরুল ইসলাম দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে নিচতলায় উঠে বসবাস শুরু করেন এবং পরে মারধর করে মেয়ে ও জামাইকে বের করে দেন।
ঘটনার পর মৌসুমীর নামে নিবন্ধিত বৈধ মিটার (নং: ২৯৫১১৫) সরিয়ে সেখানে বসানো হয় নতুন মিটার (নং: ৬৭৫৮৯০), যার বিদ্যুৎ বিল আসে মাত্র ৮৪ টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কাজটি নেসকোর মিটার রিডার ‘বন্ধন’- যিনি অভিযুক্ত নাসিরুল ইসলামের আত্মীয়-তার সহযোগিতায় হয়।
মৌসুমী পারভীন জানান, আমি যখন নেসকোর বিমানবন্দর শাখায় নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে অভিযোগ নিয়ে যাই, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো অপমানজনক কথা বলেন। বলেন, ‘জাল দলিল বানানো যায়, হোল্ডিং টাকায় হয়-এ ধরনের মন্তব্য একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে কাম্য নয়।
এই ঘটনার কেন্দ্রে থাকা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা নিয়ম অনুযায়ীই কাজ করেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে মিটার রিডার বন্ধন প্রতিবেদককে বলেন, নাসিরুল ইসলাম আমার মামা। তার অনুরোধে আমি মিটার পরিবর্তন করি। পরে জানতে পারি, জায়গা ও বাড়ি আসলে তার মেয়ের নামে। আমার ভুল হয়েছে, স্বীকার করছি।
ভুক্তভোগী মৌসুমী পারভীন রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ৯৪/০২-০৬-২০২৫) দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
স্থানীয় শাহাবুল সরকার টুটুল বলেন, এই ঘটনা কেবল পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরকার স্বজনপ্রীতি, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং জনগণের প্রতি অসংবেদনশীল আচরণের নগ্ন চিত্র তুলে ধরেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় নেসকো, এবং আদৌ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না।




