
শিক্ষানগরী রাজশাহীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর সামনের মহাসড়কটি এখন ভয়ংকর রকমের দূর্ঘটনাপ্রবন হয়ে পড়েছে। এখানে প্রায় প্রতিদিন ই ঘটে চলেছে দূর্ঘটনা, যা কখনো কখনো প্রানঘাতী হয়ে পড়ছে।
আজ সোমবার ০৪ ডিসেম্বর ও সংঘটিত হয় দূর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধ্যপর্ব পরীক্ষা শেষে ছাত্র/ছাত্রীরা রাস্তা পারাপার এর সময় দ্রূতগামী ও বেপরোয়া গতিতে একটি মোটর সাইকেল উল্টোপথে এসে তাদের বেশ কয়েকজনকে প্রচন্ড আঘাতে ছিটকে ফেলে, এতে বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হলে ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ষষ্ঠ পর্বের দুই ছাত্র গুরুতর আহত হয়। এই দুজনের মাঝে শাহনেওয়াজ সজল এর মাথায় প্রচন্ড আঘাত লেগে ফেটে যায় এবংরাকিবুল ইসলাম এর উপরের পাটির চারটি দাঁত এবং নীচের পাটির একটি দাঁত উপড়ে যায় এবং শরীরের অন্যান্য অংশ থেঁতলে যায়। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ঘটনা জানবার পর পরই পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর কিছু শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক এস এম আজম উল্লাহ, মোঃ আসিফ ইকবাল ও নাজমুল হোসাইন তাদের দেখতে ও খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান।
সরেজমিনে দেখা যায়, রেলগেট এর অদূরে এই স্থানে পাশাপাশি তিনটি বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট , শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল ও কলেজ এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ল্যাবরেটরী স্কুল। এই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্ততঃ ছয়হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত, যার মাঝে প্রায় দু হাজার স্কুল পড়ুয়া ছোট শিশু। প্রতিদিন এ রাস্তায় ভয়ংকর বেপরোয়া গতিতে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য ভারি যানবাহন সহ বাইক এবং অটো চলাচল করে কোনরূপ নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই। এর সাথে যোগ হয়েছে ফুটপাত দখল করে অবৈধ বাঁশ ব্যাবসা। সেখানে দেখা যায়, পুরো ফুটপাতে বিপদজনকভাবে স্তুপ করে রাখা হয়েছে বাঁশ । কোনভাবেই সেদিক দিয়ে চলাচল করা যায় না। এতে শিক্ষার্থীরা এই ব্যাস্ত রাস্তার উপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
এই দূর্ঘটনা এই স্থানে নতুন কিছু নয়। কয়েকদিন পর পর ই এখানে কেউ না কেউ আহত হয়। ইতিপূর্বে অত্র ইন্সটিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের সম্মানিত বিভাগীয় প্রধান মেরাজুল ইসলাম এবং মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষিকা ইছমত আরা পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। এছাড়া বছর চারেক পূর্বে একজন শিক্ষার্থী এই স্থানেই দ্রূতগামী বাস এর ধাক্কায় নিহত হয়।
এ অবস্থায় এস্থানে কয়েকটি স্পীড ব্রেকার এবং একটি ফুটওভার ব্রীজ অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী এবং এলাকার জনগন ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর দূর্ঘটনা এড়াতে এই দাবী জানিয়েছেন। ছাত্র/ছাত্রীরা ইতোমধ্যে আন্দোলনে যাবার পরিকল্পনা করছে। এ প্রসংগে একজন শিক্ষক বলেন “দেশের ভবিষ্যত, এ সকল শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় অতি দ্রুত ব্যাবস্থা নেবার জন্য আমরা মাননীয় মেয়র মহাদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমরা চাইনা আমাদের আর কোনো সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা পথচারীর রক্তে রঞ্জিত হোক সড়ক।“





