নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা মামুনুর রশীদ মামুন-কে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দেখতে চান নগরবাসীর একটি বড় অংশ। ওয়ান-ইলেভেনের দুঃসময় পেরিয়ে বারবার নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হওয়া এই নেতা বর্তমানে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে তিনি দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে মোট ২৬টি মামলা দায়ের করা হয়।
২০০৭ সালের ১৭ জুন দিবাগত রাতে র্যাব সদস্যরা ‘ক্রসফায়ার’-এর অভিযোগে তাকে তার বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায়। ওই সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হলেও সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, তার নেতৃত্বে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নতুন গতি পাবে; চলমান ও অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে আসবে দৃশ্যমান অগ্রগতি।
তাদের বিশ্বাস, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিসিক শিল্পনগরীকে সক্রিয় করা এবং রাজশাহীকে শিক্ষানগরী হিসেবে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে দূরদর্শী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেন তিনি। ফলে থমকে থাকা উন্নয়ন কার্যক্রমে আসবে গতি, আর রাজশাহী এগিয়ে যাবে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও সম্ভাবনাময় নগরী হিসেবে নতুন অগ্রযাত্রায়।
আন্দোলন-সংগ্রাম ও দমন-পীড়নের মধ্যেও মামুনুর রশীদ মামুন নগরবাসীর কাছে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন।
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দমন-পীড়নের সময় যখন রাজপথে বিএনপির দৃশ্যমান কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল সীমিত, তখনও দলকে সুসংগঠিত রাখতে নীরবে ও দৃঢ়ভাবে কাজ করে গেছেন তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে গিয়ে একাধিকবার ঘরছাড়া হয়েছেন, সহ্য করেছেন হামলা ও হয়রানি।
দীর্ঘ সময় তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে। তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি পরবর্তীতে তাকে সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র আপসহীন নীতিকে ধারণ করে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। আদর্শভিত্তিক, ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দলীয় অঙ্গনে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
রাজশাহী নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৌবাজারের একটি সাধারণ চায়ের দোকান। বিকেলের আড্ডায় চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, আর আলোচনার কেন্দ্রে একটাই নাম—মামুনুর রশীদ মামুন। স্থানীয়দের ভাষ্যে, “মামুন ভাই পরীক্ষিত নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। রাজপথে যখন অনেকে অনুপস্থিত, তখনও তিনি সাহস দিয়েছেন, সংগঠন ধরে রেখেছেন।”
তাদের মতে, রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার বহু সুযোগ থাকলেও তিনি ব্যক্তিস্বার্থে নয়, রাজশাহীবাসীর স্বার্থেই রাজনীতি করে গেছেন। বিশেষ করে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর গড়ার স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালন করছেন বলেও জানান তারা।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, নগর উন্নয়নের প্রশ্নে তার বিকল্প নেই। তাদের বক্তব্য, “রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আমরা মামুন ভাইকেই দেখতে চাই। কারণ তিনি শুধু নেতা নন, দায়িত্ব নিতে জানেন।”
একই সুর শোনা যায় নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও মাছ ব্যবসায়ী আসগর আলীর কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “আমরা এমন একজন প্রশাসক চাই, যিনি রাজশাহীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন। মামুন ভাই যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতা। তার নেতৃত্বেই শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সব মিলিয়ে নগরীর বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা কেবল রাজনৈতিক সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি একটি প্রত্যাশার প্রতিফলন—একজন পরীক্ষিত ও সংগঠক নেতার হাতে রাজশাহীর ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়ার প্রত্যাশা।
নগরবাসীর একাংশ মনে করছেন, তাকে প্রশাসক বা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে অতীতে শুরু হওয়া উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো পুনরায় গতিশীল হবে এবং রাজশাহী নগরী তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ধারায় ফিরবে।
জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন বলেন,
“আমি ক্ষমতার রাজনীতি করি না, আমি জনগণের রাজনীতি করি। নিজেকে সবসময় জনগণের সেবক হিসেবেই ভাবি। দল যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব অর্পণ করেন, তাহলে যে কোনো দায়িত্ব সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পালন করতে প্রস্তুত আছি।”





