মঙ্গলবার , ২৬ আগস্ট ২০২৫ | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. আইন
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপসম্পাদকীয়
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম
  9. চাকরীর খবর
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. দেশের খবর
  14. নারী
  15. বরিশাল

শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষোভ: রাজশাহী নিউ গভ. কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রতিবেদক
sonynews
আগস্ট ২৬, ২০২৫ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কালাচাঁদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, বৈষম্য, দুর্নীতি ও তছরুপের নানা অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, তার আমলে কলেজের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা করছেন এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অবিচার করছেন। অনেকের বেতন বৈষম্য করা হয়েছে, কেউ প্রতিবাদ করায় চাকরি হারিয়েছেন বা বেতন বন্ধ হয়েছে। এমনকি ছুটি নিয়েও বেতন কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাস্টাররোলে কর্মরত মো. সুমন আলী জানান, অধ্যক্ষ যোগদানের পর কয়েকজন কর্মচারীকে ছাঁটাই করে দলীয় প্রভাব ও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নতুনদের নিয়োগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪ জনের মধ্যে গানের শিক্ষক হিসেবে মিতুল দাস নামের এক নারীও রয়েছেন। অথচ মসজিদের ইমামের বেতন না বাড়িয়ে ওই গায়িকার বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের আরও অভিযোগ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বায়তুল হোসেন তরুর দুই বোন বুলবুলি ও জেসমিন এবং সাবেক সভাপতি মইনুল ইসলাম বাপ্পির বোন লাবনীকেও মাস্টাররোলে নিয়োগ দেন অধ্যক্ষ। কলেজে শাসন-বারণ করতে হলে তিনি এ দুই ছাত্রলীগ নেতাকে ব্যবহার করতেন। উল্লেখ্য, তরু ও বাপ্পি গত ৫ আগস্ট অস্ত্র হাতে জনতার ওপর গুলি চালানোর ঘটনার পর থেকে পলাতক।

অধ্যক্ষ কালাচাঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ আত্মসাৎ ও তছরুপেরও অভিযোগ। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার বন্দনামূলক একটি ম্যাগাজিন প্রকাশে বিধি মোতাবেক অনুমোদিত ৫ লাখ টাকার পরিবর্তে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। সেই ম্যাগাজিনগুলো এখন গুদামেই পড়ে আছে। এছাড়াও হাসিনা বন্দনার নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

নির্মাণ কাজেও রয়েছে অনিয়ম। মাউশির নির্দেশিত স্থানে ভবন না করে কলেজ মাঠ নষ্ট করে ১৪০ ফিটের একটি ছয়তলা বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজটি করেছেন সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের অনুকম্পা লাভ ও আর্থিক সুবিধার জন্য।

অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিনজন কর্মচারী—শফিকুল ইসলাম সুইট, মোহাম্মদ মহশীন ও হারুনর রশিদের সহায়তায় এসব অপকর্ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সরকারি হিসাবরক্ষক মো. সাজ্জাদ হোসেনকে দায়িত্ব না দিয়ে কেবল ফাঁকা কাগজে সই করিয়ে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেছেন হারুন ও মহশীন।

এছাড়া, কলেজের খাতা, প্যাড, খামসহ নানা কাগজপত্রে ‘শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগান ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। শিক্ষকরা দাবি করেন, অধ্যক্ষ জেনেশুনেই এসব করেছেন।

শিক্ষক-কর্মচারীদের আরও অভিযোগ, তিনি প্রভাবশালী মহল ও বিদেশি দূতাবাসের সঙ্গে সখ্য ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ কালাচাঁদ গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয়। তবে কিছু কাজ ভুলবশত হয়ে যেতে পারে।”

সর্বশেষ - রাজশাহী