ইফতেখার আলম বিশাল: সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে ঢাকায় বসে অফিস পরিচালনা এবং আর্থিক অপচয়ের অভিযোগে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মশিউর রহমানের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
গত ২৮ এপ্রিল অনলাইন নিউজ পোর্টাল newsg24.com এ “সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা: ঢাকায় বসেই নেসকো চালাচ্ছেন এমডি!” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে এবং দ্রুত এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
গত ৩০ এপ্রিল বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে প্রেরিত এক চিঠিতে এই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। যার স্মারক নম্বর (২৭.০০.০০০০.০৮৮.১১.০০২.২০২৪-১৮৭)।
উপসচিব ফারজানা খানম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ এপ্রিল newsg24.com এবং ৩০ এপ্রিল দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে উল্লিখিত বিষয়গুলোর বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নেসকোর এমডি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চার মাসে মো. মশিউর রহমান মাত্র চার দিন রাজশাহীস্থ প্রধান কার্যালয়ে অফিস করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অথচ বিদ্যুৎ বিভাগের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল যে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সকল বিদ্যুৎ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে।
এমডি রাজশাহীতে না থাকায় দাপ্তরিক কাজে স্থবিরতা, ফাইল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং গ্রাহক ভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এছাড়া ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস এবং রেস্ট হাউসের নামে প্রতি মাসে প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা সরকারি অর্থের অপচয়, বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার এবং ঢাকা কেন্দ্রিক সভা করে অতিরিক্ত সম্মানী গ্রহণের বিষয়গুলোও সামনে আসে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন এমডি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সংবাদে প্রকাশিত আর্থিক অনিয়মগুলোর সত্যতা কতটুকু, তা যাচাই করতেই এই জবাব চাওয়া হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই হস্তক্ষেপের ফলে নেসকোর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরবে।
এর আগে বিষয়টি নিয়ে এমডি মো. মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাপ্তরিক কাজের প্রয়োজনে ঢাকায় অবস্থানের কথা জানান। তবে মন্ত্রণালয়ের এই চিঠির পর তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সাধারণ গ্রাহকরা আশা করছেন, মন্ত্রণালয় তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং লোডশেডিং ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ে গতিশীলতা আসে।
সার্বিক বিষয়ে রাজশাহীর সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, একটি রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রধান যখন মূল কার্যালয় ফেলে ঢাকায় অবস্থান করেন, তখন সেবার মান ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। মন্ত্রণালয়ের এই ব্যাখ্যা তলব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি ইতিবাচক বার্তা।





