স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধকে কেন্দ্র করে পরিবহন খাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নাটোর মালিক সমিতির ‘আদনান’ নামের একটি বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী হয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত ফিক্সড চেইন চালু এবং রংপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহী মালিক সমিতির ‘আরএম পরিবহন’ নির্ধারিত সময়ের আগেই চলাচল শুরু করাকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত হয়।
এ ঘটনায় শ্রমিকরা রাজশাহী-ঢাকা রুটে নাটোর ও রাজশাহীর বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরএমপি ট্রাফিক বিভাগের ডিসি শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমঝোতায় বসেন।
পরে সমঝোতার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌসের সঙ্গে শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ফেরদৌস লিটন নামে এক চালককে হেলমেট দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে রফিকুল ইসলাম পাখির বিরুদ্ধেও অসদাচরণের অভিযোগ করা হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা দুই দিন ধরে শ্রমিক নেতাদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, ফলে পুরো পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
গত ২২ ও ২৩ এপ্রিল সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জেরে অবশেষে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে ১৫ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬০–৭০ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী শাজাহান আলী ২৪ এপ্রিল আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্তের স্বার্থে মামলাটি রাজশাহী ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম।
এদিকে সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ২২ এপ্রিল সন্ধ্যার পর রাজশাহী মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখিকে মারধর করে ইউনিয়ন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় শ্রমিকদের একাংশ। পরদিন ২৩ এপ্রিল বিকেলে পাখি তার সমর্থকদের নিয়ে কার্যালয়ের দখল নিতে গেলে সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রথমদিন হাতাহাতি হলেও দ্বিতীয় দিন ঘটেছে ককটেল বিস্ফোরণসহ গাড়ি ও টার্মিনাল সংলগ্ন বিভিন্ন শোরুম ও দোকাপাট ভাংচুরের মতো ঘটনা। মামলার এক নাম্বার আসামী করা হয় রফিকুল ইসলাম পাখিকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই জানান, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলেও ২৩ এপ্রিলের ঘটনায় হয়েছে বিস্ফোরক মামলা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সেই মামলাকে কেন্দ্র করে টার্মিনালে আবারো উত্তোজনা বিরাজ করতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ঢাকা বাস টার্মিনালের আশেপাশে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ সদস্যরা। প্রতিটি বাস ও অন্যান্য যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করছে প্রশাসন। জানতে চাইলে সেখানে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ অফিসার জানান, মামলা ও দুপক্ষের একাধিক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা গ্রেফতার হবার কারণসহ বিষয়টি যেহেতু এখনো উত্তপ্তবস্থায় আছে তাই জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে টার্মিনালের আশেপাশে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। টার্মিনালে প্রশাসনের সদস্যদের উপস্থিতির কারনে আশেপাশের এলাকায় বিরাজ করছিল বেশ থমথমেবস্থা। টার্মিনাল ঘিরে নজরদারি বাড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।





