রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী নগরীর শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখিকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তিনি রাজশাহী মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ড্রাইভার লিটনকে মারধরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা বর্তমান কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল এবং দ্রুত নতুন নির্বাচনের দাবি জানান। মিছিল চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একাংশ পাখির ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
পরবর্তীতে শতাধিক শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে জড়ো হয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং একটি বড় বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল থেকে পাখির অপসারণসহ বর্তমান কমিটি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পরে শ্রমিকদের একাংশ নওদাপাড়া আন্তজেলা বাস টার্মিনালের লেবার অফিসেও তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তাদের দাবি, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের উপার্জনের অর্থে অনিয়ম হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানি ও চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তারা। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান নেতৃত্ব এখনো পুরোনো প্রভাববলয়ের বাইরে যেতে পারেনি এবং বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
শ্রমিক মিজান বলেন, “আগে ২১ সদস্যের কমিটি থাকলেও এখন সেটি ৪০ জনে বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এতে শ্রমিকদের কল্যাণ না হয়ে বরং অনিয়ম বেড়েছে।” তার অভিযোগ, শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে জানা যায়, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস ড্রাইভার লিটনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে শ্রমিকরা ফেরদৌস ও পাখির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়ে তাদের ধাওয়া করেন। ফেরদৌস পালিয়ে গেলেও পাখি শ্রমিকদের রোষানলে পড়েন।
সাবেক শ্রমিক নেতা মো. মুঞ্জর আলী বলেন, “শ্রমিক ইউনিয়নকে স্বচ্ছতার মধ্যে আনতে হলে অবৈধ কমিটি বাতিল করে নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য হিসাব বুঝিয়ে দিতে হবে।”
বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।
সাবেক শ্রমিক নেতা স্বাধীন বলেন,
ঘটনাটি শুধু তাৎক্ষণিক উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের ফল। শ্রমিকদের অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে সাংগঠনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে নেতৃত্বের জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।
এদিকে মালিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বন্ধ থাকা রাজশাহী-ঢাকা রুটের বাস চলাচল প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একই দিন দুপুর থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে, এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কিছুটা কমেছে।





