• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনে অনন্য অবদান: মিজানুর রহমান মিনুর উন্নয়ন ইতিহাস

প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:২৮

রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনে অনন্য অবদান: মিজানুর রহমান মিনুর উন্নয়ন ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: শুধু যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নই নয়—রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গন গড়ে তোলায় সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

শুধু যুবকরাই নয়, নারীদের মেধা বিকাশ, প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনি নির্মাণ করেন রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও আধুনিক সুইমিংপুল। এছাড়া মিজানুর রহমান মিনুই প্রথম রাজশাহীতে বিভাগীয় স্টেডিয়াম নির্মাণ করে সেখানে জাতীয় মানের খেলাধুলার ব্যবস্থা করেন—যা রাজশাহীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি রাজশাহীবাসীকে তাক লাগিয়ে দেন। স্বাধীনতার পর ক্রীড়াক্ষেত্রে মিজানুর রহমান মিনুর মতো অবদান রাজশাহীর আর কোনো রাজনৈতিক নেতার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তার উন্নয়ন কার্যক্রম ছিল যেমন টেকসই, তেমনি যুগোপযোগী। সে কারণেই তিনি শিক্ষানুরাগী হওয়ার পাশাপাশি ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

নগরবাসীর ভাষ্যমতে, এক সময় রাজশাহী মহানগরীতে মাদকাসক্তির হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায়। যুবসমাজ খেলাধুলা ও পড়ালেখা থেকে মুখ ফিরিয়ে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত কাছাকাছি হওয়ায় রাজশাহীতে মাদকের ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পায়। বিষয়টি অনুধাবন করেন তৎকালীন মেয়র ও সদর আসনের এমপি মিজানুর রহমান মিনু।

তিনি রাজশাহীর সুশীল সমাজ, শিক্ষক ও সচেতন মহলের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করেন। আলোচনায় উঠে আসে—যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ছিল ১৫ হাজার, যা পরবর্তীতে বৃদ্ধি করে ৩৫ হাজার করা হয়। এটি উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ স্টেডিয়াম।

সে সময় আধুনিক মানের স্টেডিয়াম বলতে ঢাকার পর রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম ছিল অন্যতম। স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পর এখানে ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু।

তবে গত ১৬ বছরে স্টেডিয়ামটির সৌন্দর্য ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন না হলেও এ সময় স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করা হয়। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয় শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়াম।

এক সময় রাজশাহীর নারীরা ক্রীড়াক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন। নারীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে মিজানুর রহমান মিনু নির্মাণ করেন রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এখানে নারীদের খেলাধুলা, মেধা বিকাশ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। রাজধানী ঢাকার পর রাজশাহীই ছিল এমন একটি পূর্ণাঙ্গ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের স্থান।

এই কমপ্লেক্সের সঙ্গে নির্মাণ করা হয় আধুনিক সুইমিংপুল। এখানে ক্রিকেট, সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন ও অনুশীলন হয়, যা নারীদের ক্রীড়া বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজ শুরু হয়। এছাড়া ১৯৯৫ সালে জেলা সুইমিংপুলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। সে সময় প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব ক্রীড়া স্থাপনা অবহেলার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, গত ১৬ বছরে রাজশাহীতে কোনো আন্তর্জাতিক মানের খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। তাদের প্রত্যাশা—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিনু নির্বাচিত হলে রাজশাহীতে আবারও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলাধুলা ফিরবে।

খেলাধুলার ক্ষেত্রে শুধু স্টেডিয়াম বা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সই নয়, রাজশাহীর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার জন্য মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেন মিজানুর রহমান মিনু। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা নিশ্চিত করতে তিনি নিজ উদ্যোগে মাঠ তৈরি করেন। শিক্ষকরা বলছেন, রাজশাহীর যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ রয়েছে, সেগুলোর নেপথ্য কারিগর ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু।

শিক্ষকদের মতে, তিনি শুধু একজন শিক্ষানুরাগী নেতা নন, একজন প্রকৃত ক্রীড়াপ্রেমীও। আবার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে রাজশাহীতে শিক্ষা ও খেলাধুলার মান আগের মতো ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন রাজশাহীবাসী।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮