রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী কাঁকনহাট পৌর এলাকার এক সিএনজি চালককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী সিএনজি চালকগণ কাঁকনহাট পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে,কাকনহাটের তারা সিএনজি চালকগণ।কাকনহাট-রাজশাহী কোর্ট স্টেশন রাস্তায় গাড়ি চালায়। এমতবস্থায় গত ৫ নভেম্বর সকালে তাদের একজন চালক রয়েল রানাকে চা খাওয়ার কথা বলে কোর্ট স্টেশনের মনির হোসেন ও রুবেল হোসেন মটর সাইকেলে তাকে তুলে নিয়ে যায়।কিন্ত্ত দীর্ঘ প্রায় এক ঘন্টা পরেও রয়েল না আসলে তাকে খোজাখুজি করেন। পরে কোর্ট স্টেশন সিএনজি সিরিয়াল মাষ্টার মিজানুর রহমান মিজানের সহযোগিতায় রয়েলকে পাই। তবে পরে তারা জানতে পারেন বয়েলের কাছে এক লাখ টাকা টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা না হলে হেরোইন বা ইয়াবা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে মামলা দেয়া হবে। জীবন বাঁচানোর জন্য তারা ১৫ হাজার টাকা দিয়ে রয়েলকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।কিন্ত্ত বাকি ৮৫ হাজার টাকা না দিলে কাকন হাটের কোন গাড়ি চালাতে দেবো না।পরে তারা গাড়ির সিরিয়াল নিলে মনির এবং রুবেল রড ও চাইনিজ কানতাই নিয়ে গাড়ির চালকদের উপর হামলা করে।এতে তারা ২৯ জন সিএনজি চালক গাড়ি নিয়ে কাকনহাট ফিরে আসেন। কাঁকনহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি সাদরুল ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সম্পাদক রয়েল জানান, জুলাই বিপ্লবের আগে সমিতিতে ভর্তি হিসেবে এককালিন গাড়ি প্রতি ৫ হাজার টাকা, প্রতি মাসে ৫০০ টাকা এবং প্রতিদিন কাঁকনহাট ২০ টাকা ও কোর্ট স্টেশন মোড়ে ২০ টাকা করে মাস্টারি দিতে হয়।কিন্ত্ত ৫ আগস্টের পর নতুন কমিটি গঠন করা হয় এবং আগের টাকার কোনো হিসেব নাই, পরে আবারো ভর্তি গাড়ি প্রতি এক হাজার টাকা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা এবং প্রতিদিন কাঁকনহাট ২০ টাকা ও কোর্ট স্টেশন মোড়ে ২০ টাকা করে মাস্টারি দিতে হচ্ছে।
এদিকে তারা বিষয়টি কাকনহাট স্থানীয় বিএনপি নেতা- কর্মীদের জানালে তারা তাদের কাকনহাট পুলিশ ফাড়িতে জানাতে বলে। তারা কাকনহাট পুলিশ ফাড়িতে গেলে তারা তাদের কাকনহাট পৌরসভাকে জানাতে বলে।তারা সিএনজি চালকগণ কাকনহাট পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এবং অনুলিপি কাকনহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রেে প্রেরণ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি চালক বলেন, এদের সঙ্গে রয়েছে জনৈক শুভ সরকার।তিনি একজন মাদকাসক্ত ও চাঁদাবাজ।তিনি জেলও খেটেছেন,তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।তিনি এখন কাঁকনহাট সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি শুরু করেছেন।এবিষয়ে জানতে চাইলে শুভ সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।তিনি বলেন,একটি গোষ্ঠী তাকে ফাঁসাতে এসব করছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনির ও রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে কাঁকনহাট পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এ বিষয়ে উভয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এবিষয়ে কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বলেন, আমি ছুটিতে আছি, এ বিষয়ে এসআই আশরাফের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তবে এসআই আশরাফের মোবাইলে সংযোগ না পাওয়ায় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সিএনজি চালকগণ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন, যেন তারা নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।





