নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ‘নুর হোসেন লিমিটেড (জেভি)’র অংশীদার মো. জাব্বার বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দরপত্র নম্বর BMDA/BID/RAJ 532/2024-25, আইডি: 1090865 অনুযায়ী, রাজশাহী ক্যাম্পাসে ৬ তলা বিশিষ্ট বিএমডিএ সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এই টেন্ডারে মোট ৬টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
অভিযোগপত্রে মো. জাব্বার দাবি করেন, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এটিএম মাহফুজুর রহমান নিজের পছন্দের ঠিকাদার’ হিসেবে মিজানুর রহমান হোসাইন এন্টারপ্রাইজ—কে ‘ গোপনে দরপত্র সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন; যাতে করে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পান। এতে আরো বলা হয়, এই ঠিকাদার ৯.৯৯৮% কম দামে দরপত্র দাখিল করে সর্বনিম্ন দরদাতা হন। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানটিও ওই ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে দরপত্র জমা দেয়। যার মূল্য পার্থক্য ছিল মাত্র তিন হাজার টাকা।
অভিযোগকারী বলেন, সরকারি ক্রয়ে ইজিপি পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্যই ছিল স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু এখানে এককভাবে তথ্য সরবরাহ করে বাকি ঠিকাদারদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, “৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও সরকারি টেন্ডার ব্যবস্থায় স্বজনপ্রীতির ‘ফ্যাসিবাদী ধারা’ বজায় রয়েছে, যা নিন্দনীয়।
এ টেন্ডারের দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২৪ এপ্রিল ২০২৫ এবং প্রকাশের তারিখ ছিল ২৫ এপ্রিল ২০২৫। ঠিকাদারদের পে-অর্ডারের পরিমাণ ছিল ৭০ লাখ টাকা, যার মেয়াদ ছয় মাস। কাজ না পাওয়ায় অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের প্রত্যেকের আনুমানিক তিন লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক এটিএম মাহফুজুর রহমান বলেন, যদি কোনো প্রস্তাব নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়া পূরণ না করে, তাহলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে। তবে নিদিষ্ট কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে অন্য ঠিকাদাররা বলেন, এই অভিযোগ কেবল একটি টেন্ডার নয়, বরং গোটা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) পদ্ধতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল সকল অংশগ্রহণকারীকে সমান সুযোগ দিয়ে তথ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) তরিকুল আলমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।





