ইফতেখার আলম বিশাল: রাজশাহী চৌরঙ্গি জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে “দুর্নীতি ও অনিয়মের” অভিযোগ তুলেছে একটি পক্ষ। এ নিয়ে গতকাল জুমার নামাজের পর উত্তেজনা দেখা দেয়।

গতকাল শুক্রবার (২৫ আগস্ট) জুমা নামাজের পর মসুল্লিরা জড়ো হয়ে এর প্রতিবাদ জানান। এসময় পুলিশি বাধা আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা।
লক্ষিপুর পুলিশ বক্সের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, চৌরঙ্গী মসজিদে ভবন নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়, এনিয়ে কোনো গণ্ডগোলের বা ঝামেলা সৃষ্টি না হয়, সে কারণে জুমার দিনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশি প্রহরায় মসজিদটিতে জুমার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এ নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও এসময় বা পরে কোনো “অপ্রীতিকর” ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি।
অবৈধ ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে মুসল্লিরা বলেন, কমিটির সদস্যরা নকশা অনুমোদন ছাড়াই সাততলা বিশিষ্ট মসজিদ ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করছেন। সেই সঙ্গে মসজিদের নিচতলায় অবৈধভাবে ২৬টি দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কমিটির কতিপয় নেতা দোকান বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা পকেটে ভরেছেন। সম্প্রতি কয়েকজন মুসল্লি মসজিদ কমিটির এসব বেআইনি কাজের প্রতিবাদ জানালে তাদের মারধর করা হয়েছে। একসই সঙ্গে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তারা বলেন, মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি আমিনুর রহমান বাচ্চু গত ২০ জুলাই কমিটির সভাপতি ডা. ইকবাল বারীসহ ৮ জনের নামে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন। এছাড়া মসজিদের নির্মাণকাজ যাতে আইনসম্মতভাবে করা হয়, তার জন্য রাজশাহীর সিভিল আদালতে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।
আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি, যারা মসজিদ কমিটির বিভিন্ন পদের নেতা। সাততলা চৌরঙ্গী মসজিদটির নির্মাণকাজ বেআইনিভাবে চলছে। আসামিরা কোনো প্রকার নকশা বা বিধিবদ্ধ প্ল্যান ছাড়াই মসজিদের নিচতলায় ২৬টি দোকানঘর নির্মাণ করেছেন।
মসজিদটিতে আগে নিচতলায় নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন মুসল্লিরা। গত ১৭ জুলাই মাগরিবের নামাজের পর মুসল্লিরা কোনো নকশা অনুমোদন ছাড়াই মসজিদের নিচতলায় ২৬টি দোকানঘর নির্মাণ ও বিক্রির প্রতিবাদ করেন। এসময় আসামিরা কয়েকজন মুসল্লির ওপর হামলা চালান। এতে বাচ্চুসহ তিন মুসল্লি আহত হন। এ হামলার সাথে মসজিদ কমিটির সভাপতি ডা. ইকবাল বারী এবং শফিকুজ্জামান সুজন, আনসারুল হক খিচ্ছু, মাসুদ খান রানা ও রফিকুল ইসলাম জড়িত বলে অভিযোগ করেন মুসল্লিরা।
অভিযোগকারী মুসল্লিরা বলেন, চৌরঙ্গী রাজশাহীর একটি পুরোনো মসজিদ। পশ্চিম প্রান্তে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভবন নির্মাণের সময় মসজিদের দেয়ালে ফাটল ধরে। মসজিদ কমিটি মামলা করলে পপুলার ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। আগের পাঁচতলা মসজিদটি ভেঙে বর্তমানে সাততলা করা হচ্ছে। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে ছাড়পত্র নেওয়া হলেও কোনো নকশার অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
ছাড়পত্রে বলা হয়েছে, নিচতলায় কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু মসজিদ কমিটি নির্দেশনা লঙ্ঘন করে নিচতলায় ২৬টি দোকান ঘর নির্মাণ করে। এসব দোকানের একেকটি ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এমনকি মসজিদ কমিটির সভাপতি ইকবাল বারী ও তার স্ত্রী তানজিলা আলমসহ কমিটির সদস্যরা একটি করে দোকান নিয়েছেন। কমিটির সদস্যরা মুসল্লিদের মতামত উপেক্ষা করে এসব নির্মাণের পর দোকান ভাগাভাগি করেছেন। মুসল্লিরা আপত্তি করাতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
কয়েকজন মুসল্লি বলেন, মসজিদের নিচতলার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। প্রবেশপথে দুইদিকের দোকানের মাঝখান দিয়ে সংকীর্ণ একটি পথ রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশের মূল পথ এটি। অনেক প্রবীণ মুসল্লি এতদিন নিচতলায় নামাজ আদায় করতেন। এছাড়া রাজশাহীর বাইরে থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রুগী ও তাদের স্বজনরাও নামাজ আদায় করেন ওই মসজিদটিতে।
নিচতলায় মার্কেট হওয়ায় তাদের দুই বা তিনতলায় উঠতে হবে। বৃদ্ধ মুসল্লিদের জন্য এটা কষ্টের ও বিড়ম্বনার। নিচতলার দুই পাশে দোকানপাট হওয়ায় স্বাভাবিক কারণে সেখানে মানুষের ভিড় থাকবে। এই ভিড় ঠেলে মুসল্লিদের মসজিদের ওপরে উঠতে হবে। এতে মুসল্লিদের ভোগান্তি যেমন বাড়বে, তেমনি মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চৌরঙ্গী মসজিদ কমিটির সভাপতি ডা. ইকবাল বারী জানান, নকশা অনুমোদন নিয়ে মসজিদের কাজ হচ্ছে।
তবে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, চৌরঙ্গী মসজিদ প্ল্যানের জন্য একটি আবেদন এসেছে। কিন্তু এখনো অনুমোদন হয়নি। মসজিদ কমিটি যে নির্মাণকাজ করছে, তা সংশোধন করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সনি বাংলা ডট কম/ইআবি





