নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারি আওয়াল কে নিয়ে চলছে নানাকথন। তবে বেশকিছু অভিযোগের বিপরীতে তেমন কোন দাপ্তরিক অভিযোগ না পেলেও সত্যতা পাওয়া গেছে আলিশান এ্যাপার্টমেন্টের ব্যয়বহুল একটি ফ্ল্যাট কেনার বিষয়টির। যার মূল্য প্রায় কোটি টাকার। সরকারি একজন কর্মচারি হয়ে এতো উচ্চমূল্যের একটি ফ্ল্যাট কেনার কারণে বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনাও। এছাড়াও এই কর্মচারির বিরুদ্ধে নিজ কর্মরত স্থানেও অভিযোগ আছে অসদাচরণের।
শিক্ষকদের সাথে খুব একটা সদাচারি তিনি নন বলেও অভিযোগ অনেকের। আবেদিত ফাইলকে ঢাল করে উৎকোচ নেবার প্রবণতা, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করিয়ে দেবার কথা বলে নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপন করার মতো অভিযোগ উঠেছে। তবে, দপ্তর সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করলেও অকোপটে স্বীকার করেন মাঝেমধ্যে শিক্ষকদের সাথে কিছু কঠোর হবার বিষয়টি।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষকরা মাঝেমধ্যেই অফিসের বারান্দায় এসে ভীর করেন। ডিডি (উপ-পরিচালক) ম্যাডাম এতো ভীড় পছন্দ করেন না। কাজ না থাকার পরেও যারা এমন অকারণে বারান্দায় দাড়িয়ে থাকেন অনিচ্ছা থাকা সত্বেও তাঁদের সাথে কখনো কখনো একটু কঠোর আচরণ করতে হয়। আর উৎকোচ নেবার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার বলে দাবি উচ্চমান সহকারি আওয়ালের।
এদিকে, সরেজমিনে খোজ নিয়ে দেখাগেছে, শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ করা উচ্চমান সহকারি আওয়ালের রয়েছে রাজশাহী নগরীর সর্বোচ্চ প্রাইম লোকেশনে নির্মিত বহুতল ভবনে কোটি টাকার মূল্যের এলিট শ্রেণির একটি ফ্ল্যাট বাড়ি। নগরীর রাজশাহী সরকারি কলেজ রোডের পার্শে ‘কসমো পলিটন টাওয়ার’ নামের অত্যন্ত ব্যয়বহুল এ্যাপার্টমেন্টের ৬ষ্ঠ তলার ৫/এ নাম্বার ফ্ল্যাটটি তিনি কিনেছেন প্রায় কোটি টাকার বিনিময়ে।
উক্ত এ্যাপার্টমেন্টটিতে যারা বসবাস করেন তাদের অধিকাংশই সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা। যার কারণে ঐ এ্যাপার্টমেন্টে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন কর্মকর্তা ব্যতীত অন্যকেউ যেনো ফ্ল্যাট কিনতে না পারে সেরকম একটি মৌখিক নির্দেশনা ছিল অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নির্মাণ করা ‘কসমো পলিটন টাওয়ার’ বলে জানায় সূত্র।
যার কারণে, উচ্চমান সহকারি আওয়াল নিজের প্রকৃত দাপ্তরিক পরিচয় গোপন রেখে নিজেকে সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাবি করে এ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাট কেনেন বলে জানায় সূত্র।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে এ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারিদের মধ্যে এক ধরণের অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এবিষয়ে আওয়াল প্রতিবেদককে বলেন, ছেলে মেয়ের লিখাপড়ার সুবিধার কথা ভেবে আমি ঐ এ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট কিনেছি।
নিজের পদপদবীর মিথ্যে পরিচয় দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছেন কেনো জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে বিষয়টি ওভারকাম করার চেষ্টা করেন। একজন সরকারি কর্মচারি হয়ে কিভাবে এতো উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট ক্রয় করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামের বাড়িতে আমার ওমুক মামার কয়েকশ বিঘা সম্পত্তি আছে। আমার ওমুক চাচা-খালুরা অঢেল টাকার মালিক। আমার এক চাচা এলাকার প্রভাবশালী চেয়ারম্যান। আমার বাপ-দাদারা স্কুল কলেজকে অনেক সম্পত্তি দান করেছেন! এমন ধরণের বংশপরিচয় কেন্দ্রিক নানাবিষয় তিনি তুলে ধরেন প্রতিবেদকের কাছে (রেকর্ডিং সংরক্ষিত)। কিন্তু ফ্ল্যাট কেনার জন্য আপনি এতো টাকা পেলেন কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরি করে টাকা জমিয়েছি! আপনার সহধর্মীনি কি চাকুরি করেন প্রশ্নের জবাবে উত্তর আসে তিনি গৃহীনি। একজন সরকারি কর্মচারি যদি প্রতিমাসে ৫০০০ টাকা করেও ব্যাংকে জমা রাখে সেহিসেবে ২৪ বছরে সেটার পরিমাণ দাড়াবে ১৫ লক্ষ্যের কাছাকাছি। আর দশ হাজার করে জমালে ২৪ বছরে সেটির পরিমাণ দাড়াবে ত্রিশ থেকে পত্রিশ লাখ টাকায়।
যদিওবা একজন সরকারি কর্মচারির পক্ষে এই উচ্চমূল্যের বাজারে প্রতি মাসে পাঁচ/দশ হাজার করে ব্যাংকে জমানো যথেষ্ট কষ্টকর। গাণিতিক হিসাব সংশ্লিষ্ট যুক্তিগুলো দেখানোর পর তিনি পরক্ষণেই বলেন, আমি আমার বাবার সম্পত্তি থেকে ভাগ পেয়েছি। কি পরিমাণ সম্পত্তি ভাগ পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে প্রতিবেদককে বলেন, আমি তো সরকারকে আয়কর দেয়। সরকার তো জানেন আমার আর্থিক অবস্থা। বেতন ছাড়া অন্যকোন ব্যবসা বা উপার্জনের খাত আপনার আছে কি জানতে চাইলে তিনি বলেন না। সর্বশেণ তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনারা তো আমার ভাইয়ের মতো। আমাকে বিপদে ফেলে আপনাদের কি লাভ। মাঝেমধ্যে চা খেতে এসেন!
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যেই তিনি, খুলনা, মাগুড়া, সিলেট ও নাটোর (সংযুক্তি) সহ আরো বেশ কয়েকটি জেলাতে বদলী হয়েছেন। এছাড়াও রাজশাহীতে দু-দুবার বদলি হয়ে এসেছেন। ২০০৮ সালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি রাজশাহীতেই ছিলেন। কোন এক কারণে তাকে বদলী করে দেয়া হয় খুলনাতে। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরণের লবিং করে পুণরায় ২০১৯ সালে বদলী হয়ে আসেন রাজশাহীতে। চার বছর ধরে এখানেই আছেন তিনি। তিনি চাকুরিতে যোগদান করেছেন ১৯৯৮ সালে।
শিক্ষকদের সাথে উচ্চমান সহকারি আওয়ালের অসদাচরণ ও উৎকোচের অপচেষ্টা সম্পর্কীত বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, কেউ যদি অপরাধ করে থাকে তবে সেটির দায়ভার তার নিজের। তবে আবেদিত ফাইলকে ঢাল করে কোন কর্মচারির উৎকোচ নেবার সুযোগ এখানে নেই। আবেদিদ ফাইলগুলো ডকেটে জমা হয়। এবং সেগুলো পরবর্তীতে কর্মকর্তাদের টেবিলে যায়। ডকুমেন্টের কোন ল্যাকিংস না থাকলে তিন দিনের মধ্যে আবেদিত ফাইলগুলো সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও শিক্ষকরা কেনো যে কর্মচারিদের টেবিলের সামনে গিয়ে বসে থাকেন সেটি আমার জানা নেই।
সনি বাংলা ডট কম/ই আবি


















