স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩১ মে) বিকেলে নগরীর রানীবাজার এলাকায় এক রেস্তোরাঁয় এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এ সভা আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি এবং রাজশাহী বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) রাজশাহীর সভাপতি প্রফেসর ডা. ওয়াসিম হোসেন এবং রাজশাহী বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পারভেজ তৌফিক জাহেদী।
আরিফুল ইসলাম মারুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- লেখক ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. ফৌজিয়া এদিব ফ্লোরা শাপলা, ড. শেখ মেহেদী মোহাম্মদ, প্রফেসর ড. দিল আরা হোসেন রুনা, প্রফেসর ড শাহনাজ পারভীন রূমী, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, রাজশাহী বারের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ইরান প্রমূখ।
এদিনের আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, জাসাস রাজশাহীর সভাপতি অ্যাডভোকেট রজব আলী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাইট লাইফ ভলান্টিয়ার্সেসে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমানুল্লাহ আমানসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতা, লেখক ও পেশার গুণীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, শহীদ জিয়াকে নিয়ে আমাদের চর্চা বাড়ানো দরকার। এখন অনেক বয়ান শুনি। কিন্তু ৩০-৪০ বছর আগে এ ধরণের কাজগুলো তিনি করেই গেছেন। শহীদ জিয়াকে নতুনভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা থাকা দরকার। দেশে সব ধরণের বয়ান আছে। বর্তমানে হাম বিশেষজ্ঞ সাজছেন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তো নিজেদের মতো প্রজন্ম করেছিল ১৭ বছরে। ফরমায়েশি বয়ান ছিল।
তিনি বলেন, এর আগেও যে দীর্ঘ সংগ্রাম ইতিহাস ছিল আছে, আওয়ামী লীগের কাছে সেটা নগণ্য। শহীদ জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচি, রাষ্ট্রীয় ৪ দফায় দারুণ সমন্বয় নিয়ে আসলেন। জাতীয় ৪ নীতি ঘোষণা করলেন। বারবার ব্যর্থ হই আদর্শ চর্চা না থাকার কারণে। বুদ্ধিভিত্তিক চর্চায় পিছিয়ে থাকার কারণে বিএনপি ভুল করে। নিজে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। রণাঙ্গনে যেভাবে যু্দ্ধ করেছেন। দুঃশাসনের পর ইয়াং বয়সে দায়িত্ব নিচ্ছেন। নিয়েই ঐক্যের ডাক দিলেন, আমরা বাংলাদেশী। আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস ফেরালেন।
প্রফেসর মাসউদ বলেন, শহীদ জিয়ার নানামুখী চিন্তার ধারা, ছোট থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত ভূমিকা রেখেছেন। ওয়াইসিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন আশির দশকে। প্রতিটি ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। অনুপ্রেরণার উৎস তিনি। নিজ দলের বাইরেও যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ দেশের রাজনীতিতে শহীদ জিয়ার বিকল্প নেই। যে যাই বলুক। সত্য বলতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ জিয়া অতি অল্প বয়সে রণাঙ্গনে যে বিস্ময়কর অবদান রাখেন তার মূল্যায়ন হওয়া দরকার। রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অসামান্য অবদান বাংলাদেশকে শুধু স্থিতিশীল ও স্বনির্ভরই করেনি বরং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়েছিল। তিনি সততা এবং দেশপ্রেমের যে অনন্য নজীর স্থাপন করেছিলেন তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ, তাঁর চিন্তা চেতনা ও দর্শন কে চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করা দরকার। তাঁর দূরদর্শীতা আজ অবধি বাংলাদেশের সুস্থ রাজনীতিতে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে চলেছে।
তারা আরও বলেন, এদেশের প্রতিটি সেক্টরে তাঁর অবদান রয়েছে। শোষণ আর অপশাসনে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হওয়া দেশ কে তিনি আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে রাখা জাতি হিসেবে পরিচিত করেছিলেন। জাতি কৃতজ্ঞভরে চিরকাল স্মরণ করবে।





