হিটলার হোসেন: রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পবা থানা ও মতিহার থানা পুলিশ ৬ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জানুয়ারি পরিচালিত অভিযানে মোট ৩৫ বোতল নেশাজাতীয় ট্রিপ্রোলিডিন-কোডিন সিরাপ, ৮৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২২ পুরিয়ায় মোট ১০৪ গ্রাম গাঁজা, ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ১ হাজার ১৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও মাদক সরবরাহ ও বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল এবং ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো: রাজু (৩৮); মোঃ আমিনুল ইসলাম মুন্না (৪০); আব্দুল আল মামুন ওরফে ডিম বাবু (৩১); মো: ইসরাফীল হোসেন (২৫); মো: আলমগীর (৪৫); মো: রবিন আলী (৩৬)।
রাজু দামকুড়া থানার খোলাবোনা গ্রামের দুলাল ওরফে রোকার আলীর ছেলে; আমিনুল রাজপাড়া থানার তেরখাদিয়া ডাবতলা এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে; মামুন ওরফে ডিম বাবু রাজপাড়া থানার মহিষবাথান (উত্তরপাড়া) এলাকার মো: মোজাম্মেল হকের ছেলে; ইসরাফীল রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর ভাটাপাড়া, বর্তমানে মহিষবাথান উত্তরপাড়া গ্রামের মো: টিয়া আলমের ছেলে; আলমগীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া গ্রামের মো: লিয়াকতের ছেলে। তারা সকলেই রাজশাহী মহানগরীর স্থায়ী বাসিন্দা। রবিন রাজশাহীর চারঘাট থানার বালাদিয়াড় গ্রামের মৃত শাহাদত হোসেন ওরফে সাহাবুলের ছেলে এবং বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার ধরমপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি ) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পুলিশ একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার হরিপুর বনপাড়া গ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করাকালে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেহ তল্লাশি করে হাতে থাকা ব্যাগ থেকে ৩৫ বোতল নেশাজাতীয় ট্রিপ্রোলিডিন-কোডিন সিরাপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানা ও আরএমপির বিভিন্ন থানায় মোট ৪টি মামলা চলমান রয়েছে।
অপরদিকে একই তারিখ রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক মো: নজরুল ইসলাম জুয়েল ও তার টিম রাজপাড়া থানার স্টেডিয়াম মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার তেরখাদিয়া ডাবতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করাকালে আমিনুল ও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে দেহ তল্লাশি করে আমিনুলের কাছ থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মামুনের কাছ থেকে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল ও ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব মাদকদ্রব্য নিজ নিজ হেফাজতে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।





