অনলাইন ডেস্ক: হঠাৎ করেই পাকিস্তানকে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৬৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই সামরিক চুক্তিতে ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। এতে করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই অস্ত্র সহায়তার মাধ্যমে কি ভারতকে চাপে ফেলতেই চাইছে হোয়াইট হাউস, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো কৌশল?
চলতি বছরের মে মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগাম ইস্যুকে কেন্দ্র করে টানা পাঁচ দিন সীমান্ত সংঘাতে জড়ায় ভারত ও পাকিস্তান। ওই সংঘাতে উভয় পক্ষই মিসাইল ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। যদিও পরবর্তীতে সংঘাতের অবসান ঘটে, তবে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতেই পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা জোরদারে এগিয়ে এলো যুক্তরাষ্ট্র।
মূলত পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বহরে থাকা এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে উন্নত হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যার সরবরাহ করবে, যার মূল্য প্রায় ৬৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ৮০টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রয়েছে, যার একটি বড় অংশ পুরোনো। এসব বিমানের কার্যকারিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র দিচ্ছে অ্যাডভান্সড আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ড অর ফো (IFF) সিস্টেম, যা শত্রু ও মিত্র বিমান শনাক্তে পাইলটদের সহায়তা করবে।
এছাড়াও, চুক্তির আওতায় আরও ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (MDE) পাচ্ছে পাকিস্তান। এর মধ্যে রয়েছে ৯২টি লিঙ্ক-১৬ সিস্টেম, যার মাধ্যমে বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও স্থল বাহিনীর মধ্যে রিয়েল-টাইম যোগাযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে পাকিস্তান পাচ্ছে Mk-82 ইনার্ট মডেলের ২২৬ কেজি ওজনের আনগাইডেড বোমা, যা যুদ্ধাস্ত্রের ওয়ারহেড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে এবং শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির প্রভাব ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের ওপর তাদের কাছ থেকে সামরিক অস্ত্র কেনার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এক পর্যায়ে দিল্লি সে বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও চলতি বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা স্থগিত করে ভারত সরকার।
সমর বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে ভারতকে চাপে ফেলতে চাইছে। এর মাধ্যমে দিল্লিকে আবারও ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে বাধ্য করার কৌশল নিচ্ছে হোয়াইট হাউস—এমনটাই মনে করছেন তারা।





