ইফতেখার আলম বিশাল: সুমিষ্ট ও রসালো ফল তরমুজের কদর শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই রয়েছে। মৌসুমী ফলটির চাহিদা প্রতি বছর গ্রীষ্মকাল ও রমজান মাসে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এই সময়ে অতিমুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দিলে সাধারণ ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়েন। তবে এবার সেই বাজার চিত্র বদলে দিতে উদ্যোগ নিয়েছেন রাজশাহীর এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন নবগঙ্গা এলাকার পদ্মা নদীর পাড়ঘেঁষে প্রায় ২৫০ বিঘা পলিমাটির চরজমিতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ নিয়েছেন পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য বাবর আলী। তার সঙ্গে পার্টনার হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর ফল ব্যবসায়ী আলী আসগর ও মো. খাজা মঈনুদ্দিন।
তরমুজের পাশাপাশি জমির কিছু অংশে পেঁয়াজসহ আরও কয়েকটি কৃষিপণ্য আবাদ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমানে মাটি প্রস্তুতের কাজ চলছে, এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হবে বীজ বপন।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী তরমুজ উৎপাদনে অগ্রণী ভূমিকা রাখলেও উত্তরাঞ্চলে এ চাষ তুলনামূলকভাবে কম হয়। তবে এবার রাজশাহীর পদ্মার চরে তরমুজের চাষ শুরু হওয়ায় কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
পবা উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, “সাধারণ হিসাবে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মণ তরমুজ উৎপাদন সম্ভব। সে হিসেবে ২৫০ বিঘা জমিতে ১২,৫০০ থেকে ১৫,০০০ মণ তরমুজ উৎপাদন হতে পারে। তবে জাত, মাটির উর্বরতা ও পরিচর্যার ওপর ফলন নির্ভর করে।”
তিনি আরও জানান, “মাটির পিএইচ মান ৬.০ থেকে ৭.৫ এর মধ্যে থাকলে তরমুজ ভালো জন্মে, বিশেষ করে ৭ হলে তা সবচেয়ে উপযোগী।”
তরমুজ চাষের উপযুক্ত সময় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল, তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিককে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে ধরা হয়। বাবর আলী এবার আগাম জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেছেন, যাতে আসন্ন রমজান মাসের বাজার ধরতে পারেন। তার লক্ষ্য-রাজশাহী শহরকে তরমুজ চাষের উপযুক্ত নতুন অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
বাবর আলী বলেন, “আমরা চাই রাজশাহীর মানুষ যেন দক্ষিণাঞ্চল থেকে উচ্চমূল্যে তরমুজ আমদানি না করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তরমুজই পায়। এবার ফলন ভালো হলে আগামী বছর আরও কয়েক হাজার বিঘায় তরমুজ চাষের পরিকল্পনা আছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, রাজশাহী অঞ্চলে তরমুজ চাষের এই প্রথম উদ্যোগটি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করবে। ভাল ফলন হলে অনেক কৃষক এতে উদ্বুদ্ধ হবেন, আর রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনীতিতেও যুক্ত হবে নতুন সাফল্যের অধ্যায়।





