ইফতেখার আলম বিশাল: স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের আন্তর্জাতিক রুট হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকা পদ্মা নদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অভিযান চালিয়েছে রাজশাহী জেলা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোদাগাড়ীর হাটপাড়া ঘাটের ধার থেকে পাঁচ পিস সোনার বারসহ এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন প্রায় ২৯৪.১৩ গ্রাম। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের একটি ছোট অংশ উন্মোচিত হলো বলে মনে করছে পুলিশ।

গত (২০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশের একটি অভিযানিক দল এই সফলতা অর্জন করে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, একজন ব্যক্তি অবৈধভাবে স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে গোদাগাড়ীর হাটপাড়া ঘাটের ওপরে পদ্মা নদীর ধারে অবস্থান করছে।
এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের দল দ্রুত ওই স্থানে অভিযান শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। তাৎক্ষণিক ধাওয়া দিয়ে রাত ৭টা ৪০ মিনিটে মোঃ মোশারফ হোসেন (২০) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। মোশারফ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন বকচর গ্রামের মোঃ নাইমুল ইসলামের ছেলে।
আটকের পর তার দেহ তল্লাশি করে পুলিশ। তল্লাশির সময় মোশারফের পরিহিত লুঙ্গির সামনের ডান কোঁচায় কালো কসটেপ দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় পাঁচটি সোনার বারের কাটা অংশ পাওয়া যায়, যার মোট ওজন ২৯৪.১৩ গ্রাম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বর্ণ উদ্ধারের এই ঘটনার সময় অভিযুক্ত চোরাকারবারি চক্রের ডাবলু ও জাহিদ নামের আরও দুই সদস্য পুলিশের চোখ এড়িয়ে কৌশল অবলম্বন করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য গোদাগাড়ী থানা পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অবৈধভাবে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত মোঃ মোশারফ হোসেন এবং পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, এই চক্রটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের যোগসূত্র রয়েছে।





