স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর এক অটোরিকশা চালককে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় দীর্ঘ আট মাস পেরিয়ে গেলেও আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়নি। উল্টো মামলার বাদি অভিযোগ করেছেন, তদন্ত কর্মকর্তা মামলা নিয়ে গড়িমসি করছেন এবং তাকে বারবার ডেকে হয়রানি করছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মতিহার থানার এসআই মাসুদ রানা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বাদির সঙ্গে অসংলগ্ন, অবান্তর ও উল্টাপাল্টা প্রশ্নে সময় নষ্ট করছেন। এতে মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাদির দাবি, মামলার প্রধান আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তার পক্ষেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৩ মার্চ রাত ১২টার দিকে নগরীর কয়েরদাঁড়া এলাকার অটোরিকশা চালক সেলিম রেজা মতিহার থানার তালাইমারী মোড়ে যাত্রী খুঁজছিলেন। এসময় মালদা কলোনীর রাজু আহমেদের ছেলে শরিফুল ইসলাম ও আরও ৪-৫ জন তার অটোরিকশায় উঠে ইউসুবপুর যাওয়ার কথা বলেন।
গন্তব্যে পৌঁছার পর, ইউসুবপুর স্কুলের পাশে নিয়ে গিয়ে তারা সেলিমকে অটো থেকে নামিয়ে মারধর করে একটি বাড়িতে আটকে রাখে। এরপর তার হাত-পা বেঁধে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
পরদিন, ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় সেলিমের মা ফরিদা বেগম এনজিও থেকে নেওয়া ৪ লাখ টাকা অপহরণকারীদের দেন। পাশাপাশি সেলিমের ট্রাস্ট ব্যাংকের চেক বই এবং স্বাক্ষরিত ৩টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পও নেওয়া হয়। এরপর সেলিমকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ২৭ মার্চ বাদি সেলিম রেজা মতিহার থানা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই মাসুদ রানাকে। তবে আট মাস পার হলেও এখনো আদালতে চার্জশিট জমা দেননি তিনি।
সেলিম রেজা অভিযোগ করেন, “তদন্ত কর্মকর্তা প্রায়ই আমাকে থানায় ডেকে উল্টাপাল্টা কথা বলেন, মামলার বিষয়ে খুব কমই কথা হয়। কখনো ধমক দেন, কখনো আবার অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করেন। এতে আমি চরম হয়রানির শিকার হচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আসামিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি এবং আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ন্যায় বিচার পাবো কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।”
এই বিষয়ে মতিহার থানার এসআই মাসুদ রানা বলেন, “থানা থেকে আমাকে মামলাটি তদন্ত করতে দেওয়া হয়েছে, আমি তা করছি। গত ২২ মে বাদিকে চিঠি দিয়ে থানায় ডাকা হয়েছে। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে, তাই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।”





