রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিবহন মার্কেটের পরিচিত দোকান ‘চারু-আড্ডা’ এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগ রয়েছে, এই দোকানটি দীর্ঘদিন ধরে ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অপকর্মের পরিকল্পনা ও অস্ত্র মজুদের ঘাঁটি। দোকানের মালিক হিসেবে পরিচিত আলভী ইফতেখার অলি, যিনি নিজেকে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দাবি করেন এবং একসময় সভাপতি পদপ্রার্থীও ছিলেন, এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চোখের সামনে বহাল তবিয়তে চলাফেরা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরের কর্মকর্তা মো রজব আলী অভিযোগ করে বলেন ,অলি অবৈধভাবে জায়গা দখল করে চারু-আড্ডা’ নামক দোকান চালিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সহযোগিতায় দোকানের অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হলেও, অলি প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারও দোকান চালাচ্ছে।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, অলি অতীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যকেও হেনস্তার ঘটনায় তার নাম উঠে আসে। এমনকি বর্তমানে বিভিন্ন দোকান বরাদ্দে আহ্বানকৃত টেন্ডারে অংশ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দোকান দখলে নেওয়ারও চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন এস্টেট দপ্তরের কর্মকর্তা ।
পাশের এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবকণ্ঠ প্রতিনিধিকে জানান,অলি আগে ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুল্লাহ গালিবের ঘনিষ্ঠ ছিল। আওয়ামী লীগের সব অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে দেখা যেত। ছাত্রলীগের প্রভাব দেখিয়ে আমাদেরকে হেনস্তা করত। চারু-আড্ডা ছিল ছাত্রলীগের মূল আড্ডাখানা।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা কীভাবে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সক্রিয় থাকেন? প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়েও উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
অভিযুক্ত আলবী ইফতেখার অলি মানবকণ্ঠকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে তিনি বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে দোকান পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে প্রক্টর অফিস থেকেও তাকে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবহন মার্কেটে ব্যবসা করার সুবাদে নানা ধরনের ক্রেতা আমার দোকানে আসে। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মানুষের সাথেও যোগাযোগ হয়ে থাকে। কিন্তু ছাত্রলীগের সাথে আমার অবৈধ বা অনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অলি দাবি করেন, কিছু ফেসবুক স্টাটাসে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে আমাকে দেখা গেছে যা ছিল ২০২২ সালের। আর কেউ হয়তো ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন,অলি
চারু-আড্ডা দোকান দিয়ে পরিবহন মার্কেটে কিছু জায়গা দখল করেছিলো যা অবৈধ তবে প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ অংশটুকু উচ্ছ্বেদ করা হলেও পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে অলি সেখানে আবার দোকান চালাচ্ছে। কিন্তু সে ছাত্রলিগ করতো কিনা সে বিষয়ে আমি অবগত নই।
তিনি আরো বলেন,প্রক্টর দপ্তর থেকে কাউকে কোনো দোকানের বৈধতা দেওয়া হয় না এবং এই চারু-আড্ডা দোকান অতি দ্রুত অপসারণের জন্য আমরা পরিকল্পনা করছি।






