স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার আগলা উত্তরপাড়া গ্রামে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর ছয় বছর বয়সী শিশু আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে বেলপুকুর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আবরারের বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি নেপিয়ার ঘাসের জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘাস দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ মেলে। নিহত আবরার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. শওকত শরীফের মেজো ছেলে।
শিশুটির মা প্রিয়াঙ্কা সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে আবরারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি তার বাবাকে জানালে তিনি বাড়িতে এসে স্বজনদের নিয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, আবরার প্রতিবেশী দুই কিশোরী সাদিয়া ও নাদিয়ার সঙ্গে যাচ্ছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও প্রথমে কোনো তথ্য মেলেনি।
পরবর্তীতে পুলিশে খবর দিলে বেলপুকুর থানার কর্মকর্তারা এসে নাদিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে নাদিয়া মরদেহের অবস্থান দেখিয়ে দেয়।
শিশুটির মামাতো ভাই আশিব হোসেন বলেন, “আমরা সন্ধ্যা থেকেই পুকুর-জায়গায় খুঁজেছি, কোনো সন্ধান না পেয়ে পুলিশে খবর দিই। পরে পুলিশ এসে নাদিয়াকে জিজ্ঞাসা করলে সে মরদেহের জায়গায় নিয়ে যায়।”
শিশুটির বড় ফুফা আবদুল মালেক অভিযোগ করেন, “আমরা প্রথমে নাদিয়া ও সাদিয়ার পরিবারের কাছে জানতে চাইলে তারা অশালীন ভাষায় কথা বলে। পরে পুলিশ এসে জিজ্ঞাসা করলে মেয়েটি স্বীকার করে।”
এ বিষয়ে বেলপুকুর থানার ওসি সুমন কাদেরী জানান, “রাত ৯টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। অভিযুক্ত দুই কিশোরী প্রতিবেশী মাইনুলের মেয়ে সাদিয়া ও সেলিমের মেয়ে নাদিয়া দুজনই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন।”





