নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের মদদে নগর ভবনে সন্ত্রাসীদের থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেন বিএনপি নেতা মিনু। আর এ কারণেই নগর ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মিনু বলেন, নগর ভবনে যা হয়েছে যিনি বর্তমান মেয়র তার জন্যই হয়েছে। আমিও ১৮ বছর চালিয়েছি। আমি দুই তিন ঘণ্টা ওপরে কোনো দিন সিটি করপোরেশনে বসেনি। আমি ওই চেয়ারটাকে বলতাম এটা ‘শয়তানের চেয়ার’। যতই বসবে ততই নিচে গরম হবে। আমি তো দিনে ৩/৪ ঘণ্টার বেশি চেয়ারে বসতামই না। যখন আমি মেয়র নির্বাচিত হই তখন আমি সবার মেয়র, বিএনপির নই। যখন রাজপথে নামি তখন আমি বিএনপির নেতা। অথচ নগর ভবনের আট তলায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন লিটন। গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ের পর সেখান থেকে অনেক অস্ত্রও উদ্ধার করেছে ছাত্র-জনতা।
আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের এমন দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তির কথা আগামী দিনে কেউ চিন্তা করলে ছাত্র-জনতা তাদের রুখে দেবে বলেও এ সময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিনু।
বিএনপির নেতাকর্মীরা যদি সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের সঙ্গে যুক্ত হয় তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম ভাঙিয়ে যারা দখলদারিত্ব করেছে তাদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে। এতে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোথাও কারও সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলে তারা সবাই সেনাবাহিনী, পুলিশ কমিশনার কার্যালয়, ডিজিএফআই, এনএসআই ও বিএনপির কেন্দ্র বরাবর দরখাস্ত দিয়ে এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন। এগুলো দল প্রশ্রয় দেয় না।
রাজশাহীর ব্রিটিশ কাউন্সিল দখলের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু বলেন, প্রায় ১৫০ বছরের পুরাতন ব্রিটিশ কাউন্সিলের ভূমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল। তবে এ প্রতিষ্ঠান আমরা ধ্বংস করতে দেব না, জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করব। কোনো অপশক্তিকে এটা দখল করতে দেওয়া হবে না। দ্রুতই যেন সংস্কার করে এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে।
রাজশাহীতে বিএনপির মিছিল মিটিংয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের দেখা যাচ্ছে, যারা ছাত্র আন্দোলনে হাতিয়ার নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছে। এ ক্ষেত্রে দলটি কর্মী সংকটে পড়েছে কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে মিনু বলেন, এধরনের অস্ত্রধারী সন্ত্রসীদের ছবি প্র্রকাশ করে সংবাদ পরিবেশন করেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমার সাথেও কারো ছবি থাকলেও প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করে মিনু বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অবশ্যই দেশে ফিরবেন। কারণ তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তাকে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে দেশের বাইরে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি শিগগিরই তিনি বীরের বেশে দেশে ফিরবেন। দেশবাসী তার অপেক্ষায় রয়েছেন। আর শুধু তাই নয়, পলাতক নেত্রী শেখ হাসিনাকেও দেশে ফিরতে হবে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে বিশ্ব আদালতে তার বিচার করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে সবচেয়ে বড়, আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ। তারপরে আমাদের দল ও ব্যক্তি। কোনো ব্যক্তির কারণে দলে ক্ষতি হলে সেটা দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তারা খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই ঝরে পড়বে। আর যারা প্রকৃত ভালো নেতা; সেটা যে দলেরই হোক তারা অবশ্যই হাইলাইট হবে। নতুন প্রজন্ম একটা ভালো রাজনৈতিক লিডারশিপে আসছে। এটা আমাদের ও জাতির জন্য দরকার।
দেশের সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলন প্রশ্নে মিনু বলেন, আমাদের প্রায় ১১শ’র মতো নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় আটক হয়েছেন। চারজন মারা গেছেন। আর আহত হয়েছেন অগণিত। প্রচুর নেতাকর্মী পঙ্গুও হয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার ফান্ড থেকে প্রতিবছর আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে রাজশাহী জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবুল কাশেম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক ডা. ওয়াসিম হোসেনসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





